নকআউট নিশ্চিত করেও শঙ্কায় জার্মানি

এশিয়া পোস্ট স্পোর্টস
নকআউট নিশ্চিত করেও শঙ্কায় জার্মানি
শ্লটারবেকের বিশ্বকাপই এখন অনিশ্চিত। ছবি: সংগৃহীত

আইভরি কোস্টকে ২-১ গোলে হারিয়ে বিশ্বকাপের শেষ ৩২ নিশ্চিত করেছে জার্মানি। ডেনিজ উনদাভের জোড়া গোলে নাটকীয় জয়ে স্বস্তি পাওয়ার কথা ছিল ইউলিয়ান নাগেলসমানের দলের। কিন্তু সেই জয়ের রাতেই বড় দুশ্চিন্তা ঢুকে পড়েছে জার্মান শিবিরে। গোড়ালির লিগামেন্ট চোটের শঙ্কায় নিকো শ্লটারবেকের বিশ্বকাপই এখন অনিশ্চিত।

Advertisement

আইভরি কোস্টের বিপক্ষে ম্যাচে প্রথমার্ধ খেললেও দ্বিতীয়ার্ধে আর নামতে পারেননি শ্লটারবেক। তার জায়গায় মাঠে নামেন আন্টোনিও রুডিগার। ম্যাচ শেষে নাগেলসমান জানান, শ্লটারবেকের চোট ভালো দেখাচ্ছে না। তার পায়ের ভেতরের লিগামেন্টে সমস্যা থাকতে পারে। চোটের মাত্রা জানতে এমআরআই করা হবে।

নাগেলসমান বলেছেন, শ্লটারবেকের ভেতরের লিগামেন্টে কিছু হয়েছে বলে মনে হচ্ছে, তবে ঠিক কী হয়েছে তা এখনো জানা যায়নি। এমআরআই রিপোর্টের পরই পরিষ্কার হবে চোট কতটা গুরুতর। কোচের কথাতেই বোঝা গেছে, জার্মান শিবিরে উদ্বেগ কম নয়।

জার্মান সংবাদমাধ্যমের খবর অনুযায়ী, ম্যাচের শুরুতেই আমাদ দিয়ালোর সঙ্গে লড়াইয়ে বাম পা মচকে চোট পান শ্লটারবেক। প্রথমার্ধের মাঝামাঝি তাকে চিকিৎসা নিতে হয়। ব্যথা নিয়েও তিনি প্রথমার্ধের শেষ পর্যন্ত মাঠে ছিলেন। বিরতির পর আর ঝুঁকি নেয়নি জার্মানি, তার জায়গায় নামানো হয় রুডিগারকে।

তবে এখন প্রশ্ন উঠছে, তাকে এতক্ষণ মাঠে রাখা ঝুঁকিপূর্ণ ছিল কি না। লিগামেন্ট চোট হলে ম্যাচ চালিয়ে যাওয়া অনেক সময় সমস্যা বাড়াতে পারে। যদিও চূড়ান্ত কিছু বলার সময় এখনো আসেনি, এমআরআই রিপোর্টই সিদ্ধান্ত দেবে। কিন্তু নাগেলসমানের উদ্বেগপূর্ণ মন্তব্য জার্মানির অস্বস্তি বাড়িয়েছে।

শ্লটারবেক জার্মানির রক্ষণে গুরুত্বপূর্ণ অংশ। কুরাসাওয়ের বিপক্ষে ৭-১ জয়ে তিনি গোলও করেছিলেন। নাগেলসমানের পরিকল্পনায় তিনি শুধু রক্ষণের খেলোয়াড় নন, পেছন থেকে বল বের করার ক্ষেত্রেও বড় ভূমিকা রাখেন। তার বাঁ পা, লং পাস এবং সেট-পিসে উপস্থিতি জার্মানিকে আলাদা সুবিধা দেয়।

আইভরি কোস্টের বিপক্ষে জার্মানি শুরুতেই বুঝেছে, এই বিশ্বকাপ শুধু বড় ব্যবধানে জেতার মঞ্চ নয়। ফ্রাঙ্ক কেসির গোলে পিছিয়ে পড়ে তারা। এরপর বদলি নেমে উনদাভ ম্যাচ ঘুরিয়ে দেন। ৬৮ মিনিটে সমতা ফেরানোর পর যোগ করা সময়ে জয়সূচক গোল করেন স্টুটগার্ট স্ট্রাইকার। সেই জয়ে দুই ম্যাচে ৬ পয়েন্ট নিয়ে শেষ ৩২ নিশ্চিত করে জার্মানি।

কিন্তু নকআউট নিশ্চিত হলেও শ্লটারবেকের চোট জার্মানির দীর্ঘ পথের হিসাব বদলে দিতে পারে। কারণ বিশ্বকাপ শুরু হয়ে যাওয়ার পর আউটফিল্ড খেলোয়াড় ছিটকে গেলে নতুন বদলি ডাকার সুযোগ নেই। স্কোয়াড বদল করা যায় গুরুতর চোট বা অসুস্থতায়, তবে সেটি দলের প্রথম ম্যাচের ২৪ ঘণ্টা আগে পর্যন্ত। এখন তাই শ্লটারবেক যদি সত্যিই বাকি বিশ্বকাপ থেকে ছিটকে যান, নাগেলসমানকে বর্তমান স্কোয়াড থেকেই সমাধান খুঁজতে হবে।

রুডিগার আছেন, জোনাথান তাহ আছেন, মালিক থিয়াওসহ অন্য বিকল্পও আছে। কিন্তু শ্লটারবেকের মতো বাঁ পায়ের সেন্টারব্যাক হারানো রক্ষণগঠনে প্রভাব ফেলতে পারে। বিশেষ করে পেছন থেকে আক্রমণ শুরু করা এবং বাম দিকের ভারসাম্যে তার ভূমিকা জার্মানির জন্য গুরুত্বপূর্ণ।

জার্মানির জন্য আরেকটি সতর্কতা হলো, আইভরি কোস্টের গতি তাদের রক্ষণকে বেশ কয়েকবার অস্বস্তিতে ফেলেছিল। বিশেষ করে পাল্টা আক্রমণে ফাঁকা জায়গা তৈরি হচ্ছিল। শ্লটারবেক না থাকলে রক্ষণে বোঝাপড়া নতুন করে সাজাতে হবে। নকআউটে আরও শক্তিশালী প্রতিপক্ষের বিপক্ষে এমন পরিবর্তন সহজ হবে না।

তবে আপাতত জার্মানির হাতে কিছু সময় আছে। গ্রুপের শেষ ম্যাচে তাদের প্রতিপক্ষ ইকুয়েডর। শেষ ৩২ নিশ্চিত হয়ে যাওয়ায় নাগেলসমান চাইলে কিছু খেলোয়াড়কে বিশ্রাম দিতে পারেন। কিন্তু শ্লটারবেকের চোটের রিপোর্ট না পাওয়া পর্যন্ত তার পরিকল্পনা পুরোপুরি পরিষ্কার হবে না।

জার্মানির বিশ্বকাপ অভিযান এখন দুই রকম ছবি দেখাচ্ছে। মাঠে তারা সফল, দুই ম্যাচে দুই জয়, শেষ ৩২ নিশ্চিত। আক্রমণে উনদাভ নতুন নায়ক হয়ে উঠছেন। কিন্তু রক্ষণে শ্লটারবেকের চোট বড় অনিশ্চয়তা তৈরি করেছে।