উনদাভের জোড়া গোলে আইভরি কোস্টকে হারিয়ে নকআউটে জার্মানি

প্রথম ম্যাচে কুরাসাওয়ের বিপক্ষে সাত গোলের ঝড় তুলেছিল জার্মানি। আইভরি কোস্টের বিপক্ষে পরীক্ষা ছিল একেবারেই ভিন্ন। এবার পিছিয়ে পড়া, প্রতিপক্ষের গতি সামলানো, বদলি দিয়ে ম্যাচ ঘোরানো এবং শেষ মুহূর্তে জয় তুলে নেওয়ার পরীক্ষা। সেই পরীক্ষায় ডেনিজ উনদাভের জোড়া গোলে ২-১ ব্যবধানে জিতে শেষ ৩২ নিশ্চিত করল ইউলিয়ান নাগেলসমানের দল।
জয়ের নায়ক উনদাভ। বদলি নেমে দুই গোল করেন স্টুটগার্ট স্ট্রাইকার। ফ্রাঙ্ক কেসির গোলে প্রথমে এগিয়ে গিয়েছিল আইভরি কোস্ট। কিন্তু দ্বিতীয়ার্ধে উনদাভের জোড়া গোলেই ম্যাচ ঘুরে যায়। ৬৮ মিনিটে সমতা ফেরান তিনি, আর যোগ করা সময়ে করেন জয়সূচক গোল।
প্রথম ম্যাচে কুরাসাওয়ের বিপক্ষে জার্মানির আক্রমণ ছিল প্রায় অপ্রতিরোধ্য। তবে আইভরি কোস্ট একেবারেই আলাদা প্রতিপক্ষ। শারীরিক শক্তি, গতি এবং মাঝমাঠের তীব্রতায় শুরু থেকেই জার্মানিকে চাপে রাখে আফ্রিকান চ্যাম্পিয়নরা। নাগেলসমানের দল বলের দখলে এগিয়ে থাকলেও প্রথমার্ধে খুব বেশি স্বচ্ছন্দ ছিল না।
জার্মানি চেষ্টা করছিল নিজেদের পরিচিত পাসিং ফুটবল ধরে রাখতে। কিন্তু আইভরি কোস্ট তাদের সময় দিচ্ছিল না। কাই হাভার্টজের একটি হেড ইয়াহিয়া ফোফানাকে বড় পরীক্ষা নিতে পারেনি। জার্মানির দুটি গোল আগের ফাউলের কারণে বাতিল হয়। অন্যদিকে আইভরি কোস্ট যখন সুযোগ পেয়েছে, তখনই বিপদ তৈরি করেছে।
৩০ মিনিটে সেই চাপের ফল পায় আইভরি কোস্ট। ইয়ান দিয়োমান্দের ডান দিকের ক্রসে জার্মান বক্সে গোলমাল তৈরি হয়। প্রথম চেষ্টায় আমাদ দিয়ালো বল ঠিকমতো নিতে না পারলেও পরে বল যায় কেসির কাছে। ঠান্ডা মাথার ফিনিশিংয়ে তিনি জার্মানির জালে বল পাঠান। টুর্নামেন্টে দারুণ শুরু করা জার্মানি তখন প্রথমবার সত্যিকারের চাপে পড়ে।
দ্বিতীয়ার্ধে নিকো শ্লটারবেকের চোটে আন্টোনিও রুডিগারকে নামান নাগেলসমান। তবু ম্যাচের চিত্র দ্রুত বদলায়নি। জার্মানি বল ধরে রেখেছিল, কিন্তু আইভরি কোস্টের পাল্টা আক্রমণ ছিল ধারালো। দিয়োমান্দে আরও একটি সুযোগ পেয়েছিলেন। সেটি কাজে লাগাতে পারলে জার্মানির বিপদ আরও বাড়তে পারত।
ম্যাচ বদলায় নাগেলসমানের বদলিতে। জামাল মুসিয়ালা, আলেক্সান্ডার পাভলোভিচ ও লেরয় সানের জায়গায় নামেন জেমি লেভেলিং, নাদিয়েম আমিরি ও ডেনিজ উনদাভ। এই পরিবর্তনেই জার্মানির আক্রমণে নতুন গতি আসে। ডান দিক থেকে আমিরির চিপ করা বলে কাছ থেকে ভলিতে সমতা ফেরান উনদাভ। ৬৮ মিনিটে স্কোর হয় ১-১।
সমতার পর ম্যাচ আরও খোলা হয়ে যায়। আইভরি কোস্টও জয়ের সুযোগ খুঁজছিল। সিমন আদিংরা, নিকোলা পেপেরা আক্রমণে গতি বাড়ান। তবে শেষ পর্যন্ত সুযোগ কাজে লাগাতে না পারার মূল্য যোগ করা সময়ে দিতে হয় তাদের।
৯০+৪ মিনিটে ফেলিক্স নেমচার পাস ধরে বক্সে জায়গা বানান উনদাভ। পিঠে ডিফেন্ডার নিয়ে বল নিয়ন্ত্রণ করেন, ঘুরে দাঁড়ান এবং কোণাকুণি শটে ফোফানাকে পরাস্ত করেন। সেই গোলেই জার্মানি পায় নাটকীয় জয়। আইভরি কোস্টের খেলোয়াড়েরা হতাশায় মাটিতে বসে পড়েন, আর জার্মান শিবিরে শুরু হয় উদ্যাপন।
এই জয়ে দুই ম্যাচে জার্মানির পয়েন্ট হলো ৬। কুরাসাওয়ের বিপক্ষে বড় জয় এবং আইভরি কোস্টের বিপক্ষে নাটকীয় কামব্যাক, দুই ধরনের পরীক্ষাতেই সফল হয়ে শেষ ৩২ নিশ্চিত করল তারা। ২০১৪ সালে বিশ্বকাপ জয়ের পর এই প্রথম নকআউট পর্বে উঠল জার্মানি।







