
দুপুরে বা রাতে ভাত খাওয়ার পর অনেকেই হঠাৎ করেই ক্লান্তি অনুভব করেন। চোখ ভার হয়ে আসে, শরীর অলস লাগে এবং মনে হয় একটু ঘুমিয়ে নিলেই ভালো হয়। অফিসে বা কর্মস্থলে থাকলে এই পরিস্থিতি আরও অস্বস্তিকর হয়ে ওঠে। অনেকেই ভাবেন এটি কোনো শারীরিক সমস্যা, কিন্তু বাস্তবে বেশিরভাগ ক্ষেত্রে এটি স্বাভাবিক শারীরবৃত্তীয় প্রতিক্রিয়া।
তবে এই অভ্যাস যদি বারবার দৈনন্দিন কাজে বাধা তৈরি করে, তাহলে এর পেছনের কারণগুলো বোঝা জরুরি।
ভাত মূলত কার্বোহাইড্রেট সমৃদ্ধ খাবার। খাওয়ার পর এটি হজম হয়ে গ্লুকোজে রূপান্তরিত হয়, যা রক্তে শর্করার মাত্রা বাড়িয়ে দেয়। এই পরিবর্তনের ফলে শরীর সাময়িকভাবে শক্তি অনুভব করলেও কিছুক্ষণ পর ইনসুলিনের প্রভাবে রক্তে শর্করার মাত্রা কমে যেতে থাকে। এই ওঠানামাই অনেকের মধ্যে ক্লান্তি এবং ঘুমঘুম ভাব তৈরি করে।
সাদা ভাতে সাধারণত গ্লাইসেমিক ইনডেক্স বেশি থাকে। অর্থাৎ এটি দ্রুত হজম হয়ে শরীরে দ্রুত শর্করা বৃদ্ধি করে। এই দ্রুত পরিবর্তনের পর শরীর আবার ভারসাম্য ফিরিয়ে আনতে গিয়ে কিছুটা দুর্বল বা অলস অনুভূত হতে পারে।
পরিমাণও এখানে একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। অতিরিক্ত ভাত খেলে হজম প্রক্রিয়ায় বেশি শক্তি ব্যয় হয়। একই সঙ্গে রক্ত চলাচল কিছুটা হজমতন্ত্রের দিকে বেশি কেন্দ্রীভূত হয়। ফলে শরীরের অন্য অংশে তুলনামূলক কম সক্রিয়তা দেখা যায় এবং ঘুমঘুম ভাব তৈরি হয়।
কার্বোহাইড্রেট সমৃদ্ধ খাবার খাওয়ার পর শরীরে কিছু হরমোনের পরিবর্তন ঘটে। বিশেষ করে সেরোটোনিন ও মেলাটোনিনের মতো হরমোন ঘুম ও আরামের অনুভূতিতে ভূমিকা রাখে। তাই ভাত খাওয়ার পর অনেকেই মানসিকভাবে শিথিল ও ঘুমঘুম অনুভব করেন
সম্পূর্ণভাবে এটি এড়ানো না গেলেও কিছু অভ্যাসে ঘুমঘুম ভাব কমানো সম্ভব।
ভাতের সঙ্গে প্রোটিন যেমন ডাল, ডিম বা মাছ যুক্ত করলে রক্তে শর্করার ওঠানামা তুলনামূলক ধীর হয়।
আঁশযুক্ত খাবার যেমন শাকসবজি বা সালাদ যুক্ত করলে হজম প্রক্রিয়া ভারসাম্যপূর্ণ থাকে।
খাবারের পর ১০ থেকে ১৫ মিনিট হালকা হাঁটাহাঁটি করলে রক্তে শর্করার মাত্রা স্থিতিশীল থাকতে সাহায্য করে।
অতিরিক্ত ভাত না খেয়ে পরিমিত পরিমাণে খাওয়াও গুরুত্বপূর্ণ।
যদি ভাত খাওয়ার পর অতিরিক্ত ঘুমঘুম ভাব, মাথা ঘোরা বা দুর্বলতা নিয়মিত হয় এবং দৈনন্দিন কাজে প্রভাব ফেলে, তাহলে এটি ডায়াবেটিস বা বিপাকজনিত সমস্যার ইঙ্গিত হতে পারে। সে ক্ষেত্রে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত।
ভাত খাওয়ার পর ঘুম পাওয়া সাধারণত স্বাভাবিক শারীরবৃত্তীয় প্রতিক্রিয়া। তবে খাদ্যাভ্যাসে সামান্য পরিবর্তন আনলে এই সমস্যা অনেকটাই নিয়ন্ত্রণ করা যায়। সুষম খাবার, পরিমিত ভাত এবং হালকা শারীরিক সক্রিয়তা আপনাকে সারাদিন আরও সতেজ রাখতে সাহায্য করতে পারে।
সূত্র: টিভি ৯