ফিসফিসানি শুনে মনে হয় সবাই আপনাকে নিয়ে কথা বলছে, কারণ জানুন

এশিয়া পোস্ট ডেস্ক
ফিসফিসানি শুনে মনে হয় সবাই আপনাকে নিয়ে কথা বলছে, কারণ জানুন
ছবি : সংগৃহীত

অনেক সময় দেখা যায়, কিছু মানুষ আশেপাশে দু-তিনজনকে ফিসফিস করে কথা বলতে দেখলেই অস্বস্তিতে ভোগেন। মনে হতে থাকে, তারা হয়তো তাকে নিয়েই কিছু বলছে, হাসাহাসি করছে বা কোনো নেতিবাচক আলোচনা করছে। বাস্তবে অধিকাংশ ক্ষেত্রেই এই ধারণার সঙ্গে বাস্তবতার কোনো মিল থাকে না। তবুও মনের ভেতর সন্দেহ দানা বাঁধতে থাকে এবং সেই অস্বস্তি সহজে কাটে না।

Advertisement

এই ধরনের চিন্তা শুধু রাস্তায় বা জনসমাগমে নয়, অফিস, পারিবারিক অনুষ্ঠান কিংবা বন্ধুদের আড্ডাতেও দেখা যায়। পরিচিত কেউ একসঙ্গে কথা বললেই মনে হয়, আলোচনার কেন্দ্রে তিনিই আছেন। ধীরে ধীরে এই ভাবনা উদ্বেগ, অস্বস্তি এবং সামাজিক পরিস্থিতিতে অনীহা তৈরি করতে পারে।

মনোবিজ্ঞানের ভাষায় এই ধরনের চিন্তাকে বলা হয় ‘পারসিকিউটরি আইডিয়েশন’ বা সন্দেহপ্রবণ চিন্তার প্রবণতা। এতে ব্যক্তি আশপাশের নিরপেক্ষ ঘটনা বা কথাবার্তাকে নিজের সঙ্গে সম্পর্কিত করে ফেলেন। অর্থাৎ, অন্যদের আচরণকে তিনি ব্যক্তিগতভাবে নিজের বিরুদ্ধে কিছু হিসেবে ব্যাখ্যা করতে শুরু করেন।

তবে বিশেষজ্ঞদের মতে, সব সন্দেহ বা অস্বস্তিকেই মানসিক রোগ হিসেবে দেখা ঠিক নয়। অনেক মানুষ স্বভাবগতভাবেই কিছুটা সংবেদনশীল বা সন্দেহপ্রবণ হন। কেউ সহজে অন্যকে বিশ্বাস করেন না, কেউ আবার সামাজিক পরিস্থিতিতে বেশি আত্মসচেতন থাকেন। এসব বৈশিষ্ট্য থাকলেই কাউকে অসুস্থ বলা যায় না।

সমস্যা তখনই শুরু হয়, যখন এই সন্দেহ দৈনন্দিন জীবনে বড় ধরনের প্রভাব ফেলতে শুরু করে। যেমন, কেউ নিয়মিতভাবে মনে করেন তার বিরুদ্ধে অন্যরা কথা বলছে, বা বারবার একই ধরনের ভুল ধারণার কারণে সম্পর্ক, কাজ বা সামাজিক জীবন ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। তখন এটি একটি মানসিক সমস্যার লক্ষণ হতে পারে, যার জন্য পেশাদার সহায়তা প্রয়োজন।

চিকিৎসকদের মতে, এই ধরনের চিন্তা কিছু নির্দিষ্ট মানসিক অবস্থার সঙ্গে যুক্ত থাকতে পারে, যেমন গুরুতর বিষণ্নতা, স্কিজোফ্রেনিয়া বা ডিমেনশিয়া। আবার অনেক সময় অতিরিক্ত চাপ, অনিদ্রা বা দীর্ঘস্থায়ী উদ্বেগের কারণেও সাময়িকভাবে এমন অনুভূতি তৈরি হতে পারে। বিশেষ পরিস্থিতি যেমন সামাজিক অস্থিরতা বা ভয়ভীতির পরিবেশেও মানুষের মধ্যে সন্দেহপ্রবণতা বাড়তে পারে।

তবে যাই হোক না কেন, শুরুতেই বিষয়টিকে অবহেলা না করে নিজের মানসিক অবস্থার প্রতি সচেতন থাকা জরুরি।

বিশেষজ্ঞরা বলেন, এই ধরনের অনুভূতি কমাতে কিছু অভ্যাস সহায়ক হতে পারে। যেমন পর্যাপ্ত ঘুম, মানসিক চাপ নিয়ন্ত্রণ, কাছের মানুষের সঙ্গে খোলামেলা কথা বলা এবং একা না থাকা। দীর্ঘদিন ঘুমের ঘাটতি থাকলে মস্তিষ্ক তথ্য বিশ্লেষণে বিভ্রান্ত হতে পারে, ফলে নিরপেক্ষ ঘটনাকেও ভুলভাবে ব্যাখ্যা করার প্রবণতা বাড়ে।

সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, নিজের চিন্তাকে যাচাই করা শেখা। সত্যিই কি কেউ কিছু বলছে, নাকি এটি কেবল একটি ধারণা তৈরি হয়েছে? এই প্রশ্নটি নিজেকে করা অনেক ক্ষেত্রে অযথা উদ্বেগ কমাতে সাহায্য করে।

সব মিলিয়ে, ফিসফিস করে কথা বললেই নিজেকে নিয়ে আলোচনা হচ্ছে এমন অনুভূতি সবসময় মানসিক রোগ নয়। তবে এটি যদি বারবার ঘটে এবং জীবনের স্বাভাবিক চলাচল ব্যাহত করে, তাহলে বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নেওয়া প্রয়োজন।

সূত্র: নিউজ ১৮ বাংলা