যে তিন ব্যক্তি সবার আগে জান্নাতে যাবেন

এশিয়া পোস্ট ডেস্ক
যে তিন ব্যক্তি সবার আগে জান্নাতে যাবেন
প্রতীকী ছবি

মৃত্যুর পরের জীবনের প্রস্তুতি সম্পন্নের জন্য মানুষ ও জিনকে দুনিয়ায় পাঠানো হয়েছে। মুমিন-মুসলমানের জীবনের পারপাস বা উদ্দেশ্য হওয়া উচিত জান্নাত লাভ করা। এটাই একজন মুসলমানের ইমানি দায়িত্ব। যে জান্নাত লাভ করবে, তার জীবন স্বার্থক। সে থাকবে আরাম-আয়াশে। জীবনে সুখ পাওয়ার সব রকম উপকরণ নিয়ে। আর যে জাহান্নামে যাবে তার জীবন হবে নিকৃষ্ট মানুষের জীবন। সে থাকবে চিরস্থায়ী আজাবের ভেতর। তার জীবনে শান্তি থাকবে না। সেজন্য আমাদের উচিত, জান্নাতে যাওয়ার জন্য নিজেকে সবসময় ব্যস্ত রাখা। আল্লাহর আদেশ ও হজরত মুহাম্মাদ (সা.)-এর আদর্শ অনুযায়ী জীবন পরিচালনা করা।

Advertisement

মুমিনদের মধ্যে তিন শ্রেণির মানুষকে আল্লাহ সবার আগে জান্নাতে প্রবেশ করাবেন। যথা—এক. শহীদ, দুই. সৎ ও চরিত্রবান, তিন. যে কর্মচারী ভালোভাবে আল্লাহর ইবাদত করে এবং তার মালিকের কল্যাণ কামনা করে। আবু হুরায়রা (রা.) বলেন, রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘তিন শ্রেণির মানুষ সর্বপ্রথম জান্নাতে প্রবেশ করবে। যেমন—এক. শহীদ। দুই. যে ভেতরে-বাইরে সৎ ও চরিত্রবান। তিন. এমন দাস, যে উত্তমরূপে তার রবের ইবাদত করে এবং তার মালিকের কল্যাণ কামনা করে।’ (সুনানে তিরমিজি, হাদিস: ১৬৪২)

সবার আগে জান্নাতের দরজায় টোকা দেবেন হজরত মুহাম্মাদ (সা.)। তার জন্য প্রথমে জান্নাতের দরজা খুলে দেওয়া হবে। হাদিসে আছে, রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘আমি জান্নাতের দরজায় এসে দরজা খুলতে বলব। তখন দারোয়ান বলবে, কে আপনি? আমি বলব, মুহাম্মাদ। তখন সে বলবে, হ্যাঁ, আপনার বিষয়ে আমাকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে, যেন আপনার আগে কারও জন্য জান্নাতের দরজা না খুলি।’ (সহিহ মুসলিম)

মহানবী (সা.) শুধু নিজেই প্রথম জান্নাতে প্রবেশ করবেন না। তাঁর সঙ্গে নিজের উম্মতকেও নেবেন। পৃথিবীতে তাঁর উম্মত সর্বশেষ হলেও তারাই সবার আগে জান্নাতে প্রবেশের সৌভাগ্য অর্জন করবে। এটি উম্মতে মুহাম্মাদির জন্য আল্লাহর পক্ষ থেকে বিশেষ সম্মাননা।

প্রবৃত্তির তাড়নায় কিংবা শয়তানের প্ররোচনায় যেসব মুসলিম গুনাহে লিপ্ত হয়েছে, তারা নির্দিষ্ট মেয়াদে শাস্তি ভোগ করার পর জাহান্নাম থেকে মুক্তি পাবে। রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘যারা জাহান্নামের স্থায়ী বাসিন্দা, তারা সেখানে মরবেও না, বাঁচবেও না; বরং জীবস্মৃত হয়ে থাকবে। তবে যেসব মুমিন নির্দিষ্ট গুনাহের কারণে আগুনের গ্রাসে পরিণত হয়েছিল, তাদের আল্লাহ আপেক্ষিক মৃত্যু প্রদান করবেন। একপর্যায়ে যখন তারা কয়লায় পরিণত হবে, তখন আল্লাহ তাদের বিষয়ে সুপারিশের অনুমতি দেবেন। তখন তাদেরকে দলে দলে সমবেত করা হবে। জান্নাতের প্রস্রবণে মেলে ধরা হবে। এরপর বলা হবে, তোমরা তাদের ওপর পানি ঢেলে দাও। তখন তারা পলিমাটিতে বীজ থেকে জন্ম নেওয়া সজীব চারা গাছের মতো নতুন জীবন লাভ করবে।’ (মুসলিম, হাদিস: ১৮৫)

জাবের ইবনে আব্দুল্লাহ থেকে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘আগুনে জ্বলে সম্পূর্ণরূপে ভস্ম হওয়ার পর কিছু মানুষ জাহান্নাম থেকে মুক্তি পাবে। তাদের চেহারার কাঠামো শুধু বাকি থাকবে। একপর্যায়ে তারাও জান্নাতে প্রবেশ করবে।’ (সহিহ মুসলিম, হাদিস: ১৯১)