
প্রতিটি মুমিন-মুসলমানের আজীবন লালিত স্বপ্ন থাকে জান্নাতে যাওয়ার। মুমিনজীবনের সফলতাও নির্ভর করে জান্নাতে যাওয়ার ওপর। একজন মুসলিমের জীবনে সবচেয়ে বড় ব্যর্থতা হলো জান্নাতে যেতে না পারা। কারণ, মৃত্যুর পরই মানুষের আসল জীবন শুরু হয়। শুরু হয় চিরস্থায়ী জীবনের সূচনা। তাই দুনিয়ার জীবনে আল্লাহর নির্দেশ ও হজরত মুহাম্মাদ (সা.)-এর দেখানো পথে জীবন পরিচালনা করতে হবে।
মানুষের জীবনে সবচেয়ে আন্তরিক, মধুর ও ভালোবাসার সম্পর্ক থাকে স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে। আল্লাহ তাআলা তাদের মধ্যে ভালোবাসা সৃষ্টি করে দেন। একজনের প্রতি অপরজনের টান বাড়িয়ে দেন। পরস্পরকে জড়িয়ে দেন মায়ার বাঁধনে। কোরআনে আছে, ‘তাঁর (আল্লাহর) নিদর্শনাবলির মধে রয়েছে, তিনি তোমাদের জন্য তোমাদের মধ্য থেকে সৃষ্টি করেছেন তোমাদের জোড়া; যাতে তোমরা তাদের কাছে শান্তি পাও। তিনি তোমাদের মধ্যে সৃজন করেছেন ভালোবাসা ও সহমর্মিতা।’ (সুরা রুম, আয়াত: ২১)
মানুষ জান্নাতে একা থাকবে না। আল্লাহ জান্নাতে মুমিনদেরকে তাদের প্রিয়জন, আত্মীয়স্বজন ও বন্ধুদের সঙ্গে একত্রিত করবেন। কোরআনে আছে, ‘স্থায়ী জান্নাত, যাতে তারা প্রবেশ করবে এবং বাবা-মা, স্ত্রী ও সন্তানদের মধ্যে যারা সৎকর্মশীল, তারাও তাদের সঙ্গে প্রবেশ করবে।’ (সুরা রদ, আয়াত : ২৩)
এই আয়াতের ব্যাখ্যায় ইমাম ইবনে কাসির (রহ.) বলেন, ‘আল্লাহ জান্নাতে মুমিনদেরকে তাদের প্রিয়জনদের বা বাবা-মা, স্ত্রী এবং সন্তানদের মধ্যে যারা জান্নাতে প্রবেশের যোগ্য, তাদের সঙ্গে একত্রিত করবে, যাতে তাদের চোখ জুড়িয়ে যায়।’
জান্নাতে সবাই একসঙ্গে থাকার প্রথম শর্ত হলো দুনিয়ার জীবনে নেক আমল করতে হবে। দুনিয়াতে যে আল্লাহর বিধান অনুযায়ী চলবে, সে জান্নাতে যাবে। আল্লাহর বিধান অমান্যকারী যাবে জাহান্নামে। স্বামী-স্ত্রী একসঙ্গে জান্নাতে থাকার বিষয়টি নির্ভর করে আমলের ওপর। ফেরাউন জাহান্নামে যাওয়ার আমল করেছে, সে জান্নামে যাবে। ফেরাউনের স্ত্রী আসিয়া জান্নাতে যাওয়ার আমল করেছেন, তাই তিনি জান্নাতে যাবেন। লুত (আ.) জান্নাতে যাবেন, তাঁর স্ত্রী জাহান্নামে যাবেন। তাই স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে যে নেক কাজ করবে, সে জান্নাতে যাবে। মন্দ আমলকারী যাবে জাহান্নামে।
ইসলামি বিশেষজ্ঞরা বলেন, স্বামী-স্ত্রীর একজন জাহান্নামে আরেকজন জান্নাতে গেলে—স্বামী বা স্ত্রী অন্য কারও হয়ে যাবে কি না—এ বিষয়ে কোরআন-হাদিসে আলাদা করে কিছু বলা নেই। এর প্রকৃত স্বরূপ কী হবে, এটি আল্লাহ তাআলা ভালো জানেন। জান্নাতি পুরুষদের হুর দেওয়া হবে। পুরুষের স্ত্রী থাকবে হুরদের সরদার। জান্নাতে পুরুষ ও নারীরা তাদের ইচ্ছা অনুযায়ী যা চাইবে, আল্লাহ তাদের তাই দেবেন। আল্লাহ বলেন, ‘তারা পরিধান করবে মিহি ও পুরু রেশমি কাপড় এবং মুখোমুখি হয়ে বসবে। অনুরূপ আমি তাদেরকে সঙ্গিনী দান করব আয়তলোচনা হুর।’ (সুরা দুখান, আয়াত: ৫৩-৫৪)
আস-সুন্নাহ ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান শায়খ আহমাদুল্লাহ ইউটিউবে এক প্রশ্নের জবাবে বলেন, ‘মুসলমান হিসেবে আমাদের দায়িত্ব হলো, জান্নাতে যাওয়ার সর্বোচ্চ চেষ্টা করা। জান্নাতে যাওয়ার যে পথ কোরআন ও হাদিসে বলে দেওয়া হয়েছে, সে পথ অনুসরণ করে আমল করা। স্বামী-স্ত্রী উভয়কে জান্নাতে যাওয়ার মতো কাজ অব্যাহতভাবে করে যেতে হবে। জাহান্নাম থেকে মুক্ত থাকার কাজ করতে হবে। স্বামী-স্ত্রীর একজন জাহান্নামে আরেকজন জান্নাতে গেলে—তার কী হবে? স্বামী বা স্ত্রী অন্য কারও হয়ে যাবে কি না—এ বিষয়ে কোরআন-হাদিসে আলাদা করে কিছু বলা নেই। এর প্রকৃত অবস্থা কী হবে, এটি আল্লাহ তাআলা ভালো জানেন।’
তিনি আরও বলেন, ‘স্বামী-স্ত্রীর একজন জান্নাতে গেলে অপরজনও জান্নাতে চলে যাবে, বিষয়টি এমন নয়। আমল অনুযায়ী তারা জান্নাত-জাহান্নামে যাবে।’