যশোরে চোখ রাঙাচ্ছে ডেঙ্গু, ঝুঁকিপূর্ণ অভয়নগর

এশিয়া পোস্ট নিউজ, যশোর
যশোরে চোখ রাঙাচ্ছে ডেঙ্গু, ঝুঁকিপূর্ণ অভয়নগর
ছবি: সংগৃহীত

যশোরে উদ্বেগজনক হারে বাড়ছে ডেঙ্গু আক্রান্তের সংখ্যা। চলতি বছরের প্রথম ছয় মাসেই জেলায় ১০৯ জন ডেঙ্গু রোগী শনাক্ত হয়েছেন, যা গত বছরের একই সময়ের তুলনায় দ্বিগুণ। বর্ষা মৌসুম শুরু হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে ডেঙ্গু পরিস্থিতি আরও জটিল আকার ধারণ করতে পারে। পরিস্থিতি বিবেচনায় অভয়নগর উপজেলাকে ডেঙ্গু ঝুঁকিপূর্ণ এলাকা হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে।

Advertisement

জেলা স্বাস্থ্য বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালের জানুয়ারি থেকে মে মাস পর্যন্ত ডেঙ্গু আক্রান্তের সংখ্যা ছিল ৪৬ জন। চলতি বছরের একই সময়ে সেই সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১০৯ জনে। এ ছাড়া গত বছর বর্ষা শুরুর পর জুলাই থেকে নভেম্বর পর্যন্ত এক হাজার ২০৫ জন ডেঙ্গু আক্রান্ত হন। ফলে চলতি বছরের শুরুতেই আক্রান্তের সংখ্যা বৃদ্ধিকে সতর্কসংকেত হিসেবে দেখছে স্বাস্থ্য বিভাগ।

গত সাত বছরে যশোর জেলায় মোট ১২ হাজার ৫৩২ জন ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়েছেন। এ সময়ের মধ্যে প্রাণ হারিয়েছেন ২৬ জন। বিশেষ করে ২০২৩ সালে জেলার ইতিহাসে সবচেয়ে ভয়াবহ ডেঙ্গু প্রাদুর্ভাব দেখা দেয়। ওই বছর আক্রান্ত হন চার হাজার ৯৮৩ জন এবং মারা যান ১৯ জন। সংক্রমণের উচ্চমাত্রার কারণে যশোর সদর ও অভয়নগর উপজেলাকে একাধিকবার ‘রেড জোন’ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছিল।

স্বাস্থ্য কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, অতীতে উচ্চ সংক্রমণের অভিজ্ঞতা এবং সাম্প্রতিক পরিস্থিতি বিবেচনায় অভয়নগর উপজেলাকে ঝুঁকিপূর্ণ এলাকা হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। একই সঙ্গে যশোর শহরসহ জেলার বিভিন্ন এলাকায় এডিস মশার বিস্তার রোধে বিশেষ নজরদারি ও সচেতনতামূলক কার্যক্রম জোরদার করা হয়েছে।

যশোর ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. হুসাইন শাফায়াত বলেন, প্রতিদিন হাসপাতালে জ্বর ও সর্দি-কাশিজনিত রোগীর সংখ্যা বাড়ছে। কারও জ্বর দেখা দিলে অবহেলা না করে দ্রুত ডেঙ্গু পরীক্ষা করানো প্রয়োজন। সময়মতো রোগ শনাক্ত করা গেলে জটিলতা অনেকাংশে এড়ানো সম্ভব।

তিনি আরও বলেন, ডেঙ্গু প্রতিরোধে ব্যক্তিগত সচেতনতার কোনো বিকল্প নেই। বাসাবাড়ি, ছাদ, আঙিনা ও আশপাশে কোথাও পানি জমে থাকতে দেওয়া যাবে না। এডিস মশার বংশবিস্তার রোধে সবাইকে সম্মিলিতভাবে কাজ করতে হবে।

অভয়নগর উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. আলিমুর রাজিব বলেন, অতীতে ডেঙ্গুর উচ্চ ঝুঁকিপূর্ণ এলাকা হওয়ায় শুরু থেকেই আমরা সতর্ক অবস্থানে রয়েছি। জনসচেতনতা বৃদ্ধি, পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম এবং চিকিৎসা প্রস্তুতি জোরদার করা হয়েছে। রোগীর সংখ্যা বাড়লেও দ্রুত চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করার ব্যবস্থা রাখা হয়েছে।

যশোরের ডেপুটি সিভিল সার্জন ডা. নাজমুস সাদিক রাসেল বলেন, বর্তমানে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে থাকলেও আত্মতুষ্টির সুযোগ নেই। জেলার সব স্বাস্থ্যপ্রতিষ্ঠানকে প্রস্তুত রাখা হয়েছে। রোগী শনাক্তকরণ, পরীক্ষা-নিরীক্ষা ও চিকিৎসা ব্যবস্থাপনায় বিশেষ নজর দেওয়া হচ্ছে।

যশোরের সিভিল সার্জন ডা. মো. মাসুদ রানা জানান, ডেঙ্গু মোকাবেলায় জেলা স্বাস্থ্য বিভাগ সর্বাত্মক প্রস্তুতি গ্রহণ করেছে। পাশাপাশি জনগণের মধ্যে সচেতনতা বাড়াতে বিভিন্ন প্রচারণা কার্যক্রমও পরিচালনা করা হচ্ছে।

তিনি বলেন, চলতি বছরে পাঁচ মাসে ১০৯ ডেঙ্গু রোগী চিকিৎসা নিয়েছে। জ্বর, মাথাব্যথা, চোখের পেছনে ব্যথা, শরীর ও গাঁটে ব্যথাসহ ডেঙ্গুর উপসর্গ দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে হবে। পাশাপাশি বাসাবাড়ি ও আশপাশের পরিবেশ পরিষ্কার রাখা, জমে থাকা পানি অপসারণ এবং মশার বংশবিস্তার রোধে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণের মাধ্যমেই ডেঙ্গুর বিস্তার নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব।

বিষয় :যশোর