
সিরাজগঞ্জের উল্লাপাড়ায় রাস্তার উন্নয়ন কাজের নামে বজ্রপাত প্রতিরোধে রোপণ করা ২০টি তালগাছ উপড়ে ফেলা হয়েছে। এ ঘটনায় এলাকায় ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, প্রায় ১০ থেকে ১২ বছর আগে ত্রাণ ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে উপজেলার কয়ড়া খামারপাড়া থেকে হোরগাঁতী পর্যন্ত প্রায় আড়াই কিলোমিটার সড়কের পাশে বজ্রপাতের ঝুঁকি কমাতে তালগাছ রোপণ করা হয়। বর্তমানে কয়ড়া ইউনিয়ন পরিষদের একটি উন্নয়ন প্রকল্পের আওতায় রাস্তা সংস্কারের কাজ চলছে। কাজ চলাকালে বৃহস্পতিবার ও শুক্রবার গাছগুলো উপড়ে ফেলা হয়।
স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, রাস্তার পাশে থাকা ফসলি জমি থেকে সহজে মাটি কাটার সুবিধার জন্য তালগাছগুলো সরিয়ে দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি জমির বিভিন্ন স্থানে গভীর গর্ত করে মাটি নেওয়ায় কৃষিজমিরও ব্যাপক ক্ষতি হচ্ছে।
স্থানীয় এরশাদ আলী, আব্দুল মমিন ও ইউসুব আলী বলেন, বজ্রপাত থেকে সুরক্ষার কথা বিবেচনা করেই সরকার এসব তালগাছ লাগিয়েছিল। কিন্তু কোনো ধরনের পূর্বঘোষণা বা মতামত না নিয়েই গাছগুলো উপড়ে ফেলা হয়েছে। এতে পরিবেশের ক্ষতির পাশাপাশি কৃষকদের জমিও নষ্ট হচ্ছে।
প্রকল্প বাস্তবায়ন কমিটির (টিআইসি) সভাপতি ও ৩ নম্বর ওয়ার্ড সদস্য মো. আমিরুল ইসলাম বলেন, পদাধিকারবলে সভাপতি হলেও কাজের দেখভাল মূলত অন্যরা করছেন। গাছ অপসারণের সিদ্ধান্ত তার জানা ছিল না।
কাজের তদারকির দায়িত্বে থাকা কয়ড়া ইউনিয়ন জামায়াতের বায়তুলমাল সম্পাদক আবু বকর সিদ্দিক বলেন, স্থানীয় মানুষের মতামতের ভিত্তিতেই গাছগুলো সরানো হয়েছে। রাস্তার কাজ শেষে পুনরায় তালগাছ রোপণ করা হবে। তবে গাছ অপসারণে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের অনুমতি নেওয়া হয়েছিল কি না—এ প্রশ্নের স্পষ্ট জবাব দিতে পারেননি তিনি।
কয়ড়া ইউনিয়ন পরিষদের প্রশাসক ও উপজেলা আনসার-ভিডিপি কর্মকর্তা মো. আলমগীর হোসেন বলেন, তালগাছ উপড়ে ফেলার বিষয়টি আমার জানা নেই। এবিষয়ে এখন পর্যন্ত কেউ অভিযোগ করেনি। অভিযোগ দিলে দ্রুত তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
উল্লাপাড়া বন বিভাগের কর্মকর্তা দেওয়ান শহিদুজ্জামান বলেন, বন বিভাগের অনুমতি ছাড়া সরকারি জায়গার কোনো গাছ কাটার সুযোগ নেই। অভিযোগের সত্যতা যাচাই করে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হবে।




