বিবাদপূর্ণ বাড়িতে সাবেক যুবদল নেতার ‘বিএনপি অফিস’

এশিয়া পোস্ট নিউজ, গাইবান্ধা
বিবাদপূর্ণ বাড়িতে সাবেক যুবদল নেতার ‘বিএনপি অফিস’
দখল করে বিএনপির দলীয় কার্যালয় বানানো ভবন এবং ছবির ওপর অভিযুক্ত যুবদল নেতা। ছবি: এশিয়া পোস্ট

গাইবান্ধার সাঘাটায় তিনতলা আবাসিক ভবন দখল করে বিএনপির দলীয় কার্যালয় বানানোর অভিযোগ উঠেছে জাতীয়তাবাদী যুবদলের সাবেক কেন্দ্রীয় সহ-আইনবিষয়ক সম্পাদক অ্যাডভোকেট জিল্লুর রহমানের বিরুদ্ধে। ভুক্তভোগী জানান, সশস্ত্র সন্ত্রাসীদের নিয়ে ঘরের তালা ভেঙে ও ড্রিল মেশিন দিয়ে দরজা কেটে মারধর করে তাদের বের করে দেওয়া হয়। তবে বাড়ি দখলের অভিযোগ অস্বীকার করেন জিল্লুর রহমান।

Advertisement

হামলার বিবরণ ও শ্লীলতাহানির অভিযোগ

ভুক্তভোগী সানজিদা শেলী শাপলা ও মামলার নথি থেকে জানা যায়, গত বছরের আজহার দিন ভোরে জিল্লুর রহমানের নেতৃত্বে ১৫ থেকে ১৬ জনের একদল দেশীয় অস্ত্র, লাঠিসোঁটা, রামদা ও ড্রিল মেশিন নিয়ে ওই তিনতলা ভবনে হামলা চালায়। সন্ত্রাসীরা ভবনের কলাপসিবল গেটের তালা ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করে। একপর্যায়ে শয়নকক্ষের দরজা ড্রিল মেশিন দিয়ে কেটে ভেতরে ঢুকে শাপলার শ্লীলতাহানির চেষ্টা করা হয়। এ সময় বাধা দিতে গেলে শাপলার ছেলে আসিফ রেজা শুভকে হাতুড়ি দিয়ে পেটানোর পাশাপাশি ইলেকট্রিক শক দেওয়া হয়। শাপলার বাবা শাহাদুজ্জামান সাজুকেও মারধর করে রক্তাক্ত করা হয়। পরে ঘর ভাঙচুর করে পরিবারের সবাইকে টেনেহিঁচড়ে রাস্তায় বের করে দিয়ে বাড়িটি দখলে নেওয়া হয়।

পুলিশের ভূমিকা ও মামলা

ভুক্তভোগী শাপলা জানান, হামলার সময় ‘৯৯৯’-এ ফোন দেওয়া হলে সাঘাটা থানা থেকে বলা হয়, আপনাদের কি ঈদ নেই? এই সময়ে ফোন দিয়েছেন কেন? ঘটনাস্থল থেকে থানার দূরত্ব মাত্র আধা কিলোমিটার হলেও পুলিশ পৌঁছায় সাড়ে তিন ঘণ্টা পর। সাঘাটা থানার পুলিশ সদস্য আল আমিন ঘটনাস্থলে এসে উল্টো দখলদারদের পক্ষ নেন।

এ ঘটনায় থানায় মামলা করতে গেলে পুলিশ মামলা না নিয়ে আদালতে যাওয়ার পরামর্শ দেয়। পরে নিরুপায় হয়ে ভুক্তভোগী নারী গাইবান্ধার এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট ১ম আদালত এবং জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে পৃথক মামলা দায়ের করেন। এ ছাড়া গাইবান্ধা প্রেস ক্লাবে সংবাদ সম্মেলন ও র‌্যাব ১৩-এর রংপুর ক্যাম্পেও লিখিত অভিযোগ করেন তিনি।

জমির মালিকানা নিয়ে দ্বন্দ্ব

২০১৪ সালে ঝাড়াবর্ষা গ্রামের বাসিন্দা আশরাফুল ইসলাম এবং তার স্ত্রী শাপলা স্থানীয় খলিলুর রহমানের কাছ থেকে পাঁচ শতক জমি তাদের নামে কবলা দলিল করে নেন। শাপলার বাবার শাহাদুজ্জামান সাজু তার অর্থায়নে মেয়ে এবং মেয়ে জামাইকে ওই জমি ক্রয় করে দেন। পরে শাপলার অংশে অর্থাৎ আড়াই শতক জমির ওপর তিনতলা ভবন নির্মাণ করে দুই সন্তানসহ বসবাস করছিলেন তিনি। কিন্তু স্বামী আশরাফুল ইসলাম অনলাইন জুয়া ও নেশায় আসক্ত হয়ে পড়ায় ভবনটি রক্ষার্থে ২০২৫ সালের জুলাই মাসে শাপলা তার অংশটি দুই ছেলের নামে দলিল করে দেন। তবে শাপলার স্বামী তার মালিকানাধীন ফাঁকা অংশের জমি গত ১৫ এপ্রিল জিল্লুর রহমানের নামে দলিল করে দেন। এর দেড় মাস পরই পুরো বাড়িটি দখলে নিয়ে বিএনপির দলীয় সাইনবোর্ড ঝুলিয়ে দেওয়া হয়।

অভিযুক্ত অ্যাডভোকেট জিল্লুর রহমান বাড়ি দখলের অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, এলাকার দলীয় নেতাকর্মীরা একটি কার্যালয়ের জন্য দাবি জানালে আমি ভবনটি স্কয়ার ফুট হিসেবে ক্রয় করেছি। আমি বাড়ি দখল করিনি, আশরাফুল নিজেই আমাকে এটি বুঝিয়ে দিয়েছেন। আমার নিজস্ব বাড়ি থাকায় এই ভবনটি বিএনপির পার্টি অফিস হিসেবে ব্যবহার করতে দিয়েছি।

তবে শাপলার স্বামী আশরাফুল ইসলাম বলেন, আমি নেশাগ্রস্ত না। অনলাইনে জুয়াও খেলি না। আমার বিষয়ে এসব মিথ্যা কথা বলেছে শাপলা। আমার স্ত্রী যে জমিটি আগেই ছেলেদের নামে লিখে দিয়েছে, সে বিষয়টি জানতাম না।

সাঘাটা উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক আলহাজ মোহাম্মদ আলী বলেন, শুনেছি অ্যাডভোকেট জিল্লুর রহমান বাড়িটি কিনেছেন। তবে সেই জায়গায় কেন বিএনপি অফিসের সাইনবোর্ড লাগানো হবে, তা আমার জানা নেই। বিষয়টি আমি খোঁজ নিয়ে দেখছি।