logo
Advertisement

আইসিসিকে জানিয়েই বিসিবি বোর্ড ভেঙে দেয় এনএসসি

এশিয়া পোস্ট নিউজ
এশিয়া পোস্ট নিউজ
আইসিসিকে জানিয়েই বিসিবি বোর্ড ভেঙে দেয় এনএসসি

বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের বর্তমান পরিচালনা পর্ষদ ভেঙে দেওয়ার সিদ্ধান্ত আন্তর্জাতিক ক্রিকেট কাউন্সিলকে আনুষ্ঠানিকভাবে জানানো হয়েছে বলে জানিয়েছেন জাতীয় ক্রীড়া পরিষদের পরিচালক মোহাম্মদ আমিনুল এহসান। একইসঙ্গে ১১ সদস্যের একটি এডহক কমিটি গঠনের বিষয়টিও আইসিসিকে অবহিত করা হয়েছে। এখন সংস্থাটির প্রতিক্রিয়ার অপেক্ষায় রয়েছে এনএসসি।

মঙ্গলবার (৭ এপ্রিল) আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে আমিনুল এহসান বলেন, যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয় এবং জাতীয় ক্রীড়া পরিষদের গঠিত তদন্ত কমিটির প্রতিবেদনে ২০২৫ সালের বিসিবি নির্বাচনে গুরুতর অনিয়মের চিত্র উঠে এসেছে। সেই প্রেক্ষিতেই বোর্ড বিলুপ্তির সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

তিনি জানান, তদন্তে দেখা গেছে সাবেক সভাপতি আমিনুল ইসলাম বুলবুল এককভাবে ১০ জন সাবেক ক্রিকেটারকে কাউন্সিলর হিসেবে মনোনয়ন দেন, যা নির্বাচনি প্রক্রিয়ায় বড় ধরনের প্রভাব ফেলে। এতে তিনি সুবিধাজনক অবস্থানে চলে যান এবং নির্বাচনের ফলাফল প্রভাবিত হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়।

তবে পুরো সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষেত্রে আন্তর্জাতিক দিকটিকে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে বলেই জোর দিয়ে বলেন এনএসসির এই কর্মকর্তা। তার ভাষ্য অনুযায়ী, কমিটির প্রতিবেদন পর্যালোচনার পর এনএসসি মনে করেছে যে নির্বাচনি প্রক্রিয়ায় স্পষ্ট দুর্বলতা ও অনিয়ম ছিল। সেই প্রেক্ষিতে আইসিসিকে ইমেইলের মাধ্যমে বিস্তারিত জানানো হয়েছে।

আমিনুল এহসান বলেন, নতুন গঠিত এডহক কমিটি আগামী তিন মাসের মধ্যে একটি নির্বাচিত কমিটি গঠনের দায়িত্ব পাবে। এই সময়ের মধ্যে তারা নির্বাচিত কমিটির মতোই পূর্ণ ক্ষমতা নিয়ে ক্রিকেট পরিচালনা করবে এবং স্বাভাবিক কার্যক্রম চালিয়ে যাবে।

তিনি আরও জানান, দেশের ক্রীড়া অঙ্গনে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা এবং মানুষের মধ্যে আস্থা ফিরিয়ে আনতেই এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এনএসসির অধীন ৫১টি ফেডারেশন ও সংস্থাকে দেশের আইন এবং ক্রীড়া সংক্রান্ত নীতিমালা মেনে চলার আহ্বানও জানান তিনি।

এনএসসি আশা করছে, আইসিসি এই পদক্ষেপকে ইতিবাচকভাবে দেখবে এবং দ্রুত প্রতিক্রিয়া জানাবে। কারণ, আন্তর্জাতিক ক্রিকেটের নিয়মকানুনের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে এই পুরো প্রক্রিয়া এগিয়ে নেওয়ার বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করছে সংশ্লিষ্টরা।

এর আগে থেকেই বিসিবির বর্তমান বোর্ড ভেঙে দেওয়ার সম্ভাবনার কথা শোনা যাচ্ছিল। তদন্ত কমিটির সুপারিশের ভিত্তিতে নির্বাচন ব্যবস্থায় সংস্কার আনার কথাও আলোচনায় ছিল। এখন সবকিছুর কেন্দ্রবিন্দুতে আইসিসির অবস্থানই বড় প্রশ্ন হয়ে দাঁড়িয়েছে।