বাংলাদেশের দুই ‘অস্ত্র’ নিয়ে ভাবনায় অস্ট্রেলিয়া

১৫ বছর পর ওয়ানডে সিরিজ খেলতে বাংলাদেশে এসেছে অস্ট্রেলিয়া। তবে সিরিজ শুরুর আগেই বড় ধাক্কা খেয়েছে সফরকারীরা। মিচেল মার্শ, ট্রাভিস হেড ও তানভির সাঙ্গা—তিনজনকেই ওয়ানডে সিরিজে পাচ্ছে না অস্ট্রেলিয়া। এই পরিস্থিতিতে ভারপ্রাপ্ত অধিনায়ক জস ইংলিস যেমন নিজেদের নতুন কম্বিনেশন নিয়ে ভাবছেন, তেমনি বাংলাদেশকেও দেখছেন যথেষ্ট গুরুত্ব দিয়ে।
বাংলাদেশের বিপক্ষে তিনটি ওয়ানডে ও তিনটি টি-টোয়েন্টি খেলবে অস্ট্রেলিয়া। মিরপুরে ৯ জুন শুরু ওয়ানডে সিরিজ। তার আগে সংবাদ সম্মেলনে ইংলিসের কথায় পরিষ্কার, সিনিয়রদের অনুপস্থিতি অস্ট্রেলিয়ার জন্য সহজ বিষয় নয়। মার্শ ও হেডের মতো ক্রিকেটার না থাকলে দল কিছু না কিছু হারায়—এটা মেনে নিয়েছেন তিনি। তবে একই সঙ্গে এটাকেই তরুণদের জন্য সুযোগ হিসেবেও দেখছেন অস্ট্রেলিয়ার অধিনায়ক।
ইংলিসের ভাবনায় আছে সামনের বড় টুর্নামেন্টও। তার মতে, বিশ্বকাপের আগে ভিন্ন কন্ডিশনে ভিন্ন কম্বিনেশন দেখে নেওয়া জরুরি। পাকিস্তান সিরিজের অভিজ্ঞতার পর বাংলাদেশের কন্ডিশনও অস্ট্রেলিয়ার তরুণ ক্রিকেটারদের জন্য বড় পরীক্ষা হতে পারে। স্পিন, ধীরগতির উইকেট, গরম সব মিলিয়ে মিরপুরে নিজেদের ছক মিলিয়ে নেওয়াই এখন অস্ট্রেলিয়ার বড় কাজ।
তবে অস্ট্রেলিয়ার পরিকল্পনায় শুধু নিজেদের ঘাটতি নয়, বাংলাদেশের শক্তিও জায়গা পাচ্ছে। বিশেষ করে নাহিদ রানা ও রিশাদ হোসেনকে নিয়ে আলাদা করে কথা বলেছেন ইংলিস।
নাহিদকে খুব বেশি কাছ থেকে না দেখলেও বাংলাদেশের এই পেসারকে নিয়ে সতর্ক অস্ট্রেলিয়া। লম্বা উচ্চতা, বাড়তি গতি এবং বাউন্স এই তিনের সমন্বয় নাহিদকে আলাদা করে তুলেছে। ইংলিস মনে করেন, এই সিরিজে অস্ট্রেলিয়ান ব্যাটসম্যানদের জন্য নাহিদ কঠিন চ্যালেঞ্জ হতে পারেন।
বাংলাদেশের পেস আক্রমণে নাহিদের উপস্থিতি সাম্প্রতিক সময়ে নতুন মাত্রা যোগ করেছে। শুধু গতি নয়, ব্যাটসম্যানকে অস্বস্তিতে ফেলার ক্ষমতাও তাঁর বড় অস্ত্র। মিরপুরের উইকেট সাধারণত স্পিনবান্ধব হলেও নতুন বলে বা মাঝের ওভারে নাহিদের গতি ম্যাচের ছন্দ বদলে দিতে পারে অস্ট্রেলিয়াও সেটি বুঝছে।
রিশাদ হোসেনকে নিয়ে অস্ট্রেলিয়ার আগ্রহ আরও স্বাভাবিক। কারণ বাংলাদেশের এই লেগ স্পিনার বিগ ব্যাশে হোবার্ট হারিকেন্সের হয়ে দারুণ সময় কাটিয়ে এসেছেন। অস্ট্রেলিয়ান ক্রিকেটারদের অনেকে তাঁকে কাছ থেকে দেখেছেন। ম্যাথু ওয়েড ও নাথান এলিস হোবার্টে রিশাদের সঙ্গে খেলেছেন। ইংলিস জানিয়েছেন, রিশাদকে নিয়ে তাঁদের মধ্যে আলোচনা হবে।
বাংলাদেশের ক্রিকেটে লেগ স্পিনার অনেক দিনই ছিল বিরল এক অধ্যায়। রিশাদ সেই জায়গায় নতুন সম্ভাবনা হয়ে উঠেছেন। সাদা বলের ক্রিকেটে তার উচ্চতা, টার্ন, গুগলি এবং নিচের দিকে ব্যাট হাতে অবদান রাখার ক্ষমতা বাংলাদেশকে বাড়তি ভারসাম্য দেয়। বিগ ব্যাশে খেলার অভিজ্ঞতা তাকে অস্ট্রেলিয়ান ব্যাটসম্যানদের কাছে পরিচিত করেছে বটে, তবে একই সঙ্গে তাঁকে আরও আত্মবিশ্বাসীও করেছে।
অস্ট্রেলিয়ার জন্য সিরিজটি তাই শুধু রুটিন সফর নয়। বড় কয়েকজন ক্রিকেটার নেই, নেতৃত্বে ইংলিস, সামনে বাংলাদেশের ঘরের মাঠের চ্যালেঞ্জ। অন্যদিকে বাংলাদেশের সামনে সুযোগ—অস্ট্রেলিয়ার বদলে যাওয়া দলকে চাপে ফেলার। নাহিদের গতি আর রিশাদের ঘূর্ণি যদি ঠিক সময়ে কার্যকর হয়, তাহলে মিরপুরে সিরিজের শুরুতেই অস্ট্রেলিয়াকে কঠিন পরীক্ষায় ফেলতে পারে বাংলাদেশ।


