logo
Advertisement

চাহিদার তুলনায় বরিশালে কোরবানির পশু বেশি

এশিয়া পোস্ট নিউজ
এশিয়া পোস্ট নিউজবরিশাল
চাহিদার তুলনায় বরিশালে কোরবানির পশু বেশি
ছবি : এশিয়া পোস্ট

কোরবানিকে কেন্দ্র করে এ বছর বরিশাল বিভাগের ৬ জেলায় চাহিদার চেয়ে প্রায় ৬৮ হাজার পশু উদ্বৃত্ত থাকবে বলে প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তর জানিয়েছেন। তবে প্রান্তিক পর্যায়ের গৃহস্থের দাবি গত বছরের মতো এ বছরও গরুর সংকট হবে। কারণ লাম্পি ও খুরা রোগে আক্রান্ত হওয়ায় প্রান্তিক গৃহস্থদের লালন-পালন করা অনেক কসাইদের কাছে বিক্রি করা হয়েছে।

বরিশাল বিভাগীয় প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তর সূত্র জানিয়েছে, বিভাগের ৬ জেলায় এ বছর কোরবানির পশুর চাহিদা রয়েছে চার লাখ ৭৮৩টি। কোরবানিযোগ্য পশু রয়েছে চার লাখ ৬৮ হাজার ৪৪৫টি। উদ্বৃত থাকবে ৬৭ হাজার ৬৬২টি।

বিভাগের মধ্যে বরিশাল জেলায় চাহিদা রয়েছে এক লাখ ২৬ হাজার ৫৭৯টি। কোরবানিযোগ্য পশু রয়েছে এক লাখ ২৯ হাজার ৪৪টি। উদ্বৃত থাকবে ২৪৬৫টি। এ জেলায় ৯ হাজার ১৫৮ জন খামারে ৮০ হাজার ৮০৮টি ষাঁড়, ১২ হাজার ৮৬১টি বলদ, ১০ হাজার ৪৪৫টি গাভি, ৪০০টি মহিষ, ২৪ হাজার ১৭৯টি ছাগল, ৩০৭টি ভেড়া ও অন্যান্য ৩৪টি পশু রয়েছে।

পটুয়াখালী জেলায় কোরবানির পশুর চাহিদা রয়েছে এক লাখ ১১ হাজার ৬৭৪টি। পশু রয়েছে এক লাখ ৩৩ হাজার ৭১৮টি। উদ্বৃত থাকবে ২২ হাজার ৪৪টি। এ জেলায় ৬ হাজার ৪২১টি খামারে ৫৬ হাজার ৫৪৬টি ষাঁড়, ১৪ হাজার ৪৬৮টি বলদ, ১৫ হাজার ৯৮৬টি গাভি, দুই হাজার ৮১৮টি মহিষ, ৪০ হাজার ৭৬টি ছাগল ও তিন হাজার ৮২৪টি ভেড়া রয়েছে।

ঝালকাঠি জেলায় কোরবানির পশুর চাহিদা ৩০ হাজার ২৮টি। কোরবানির পশু রয়েছে ৩০ হাজার ৫৮৮টি। উদ্বৃত থাকবে ৫৬০টি। এ জেলায় দুই হাজার ১৩৬টি খামারে ৯ হাজার ৮০৮টি ষাঁড়, ৮ হাজার ৮৭০টি বলদ, এক হাজার ৭৭৪টি গাভি, ১৩৯টি মহিষ, ৯ হাজার ৯৬৫টি ছাগল ও ৩২টি ভেড়া রয়েছে।

বরগুনা জেলায় কোরবানির পশুর চাহিদা রয়েছে ৩০ হাজার ১৮২টি। পশু রয়েছে ৪৩ হাজার ৪২৬টি। উদ্বৃত্ত থাকবে ১৩ হাজার ২৪৪টি। এ জেলায় তিন হাজার ৪৭টি খামারে ২০ হাজার ৪৩৫টি ষাঁড়, ৫ হাজার ৩৮টি বলদ, চার হাজার ২২০টি গাভি, এক হাজার ৬৯৩টি মহিষ, ৮ হাজার ৮৭২টি ছাগল, তিন হাজার ১২১টি ভেড়া ও অন্যান্য ৩৪টি পশু।

ভোলা জেলায় কোরবানির পশুর চাহিদা রয়েছে ৮০ হাজার ৭৪৩টি। পশু রয়েছে এক লাখ তিন হাজার ১৭টি। উদ্বৃত থাকবে ২২ হাজার ২৭৪টি। এ জেলায় ১১ হাজার ৬১১টি খামারে ৩০ হাজার ২১০টি ষাঁড়, ২৩ হাজার ৮১৬টি বলদ, ১১ হাজার ২৪৫টি গাভি, চার হাজার ৭২০টি মহিষ, ২৬ হাজার ৪১৮টি ছাগল ও ৬ হাজার ৬০৮টি ভেড়া।

পিরোজপুর জেলায় কোরবানির পশুর চাহিদা রয়েছে ২১ হাজার ৫৭৭টি। পশু রয়েছে ২৮ হাজার ৬৫২টি। উদ্বৃত্ত থাকবে সাত হাজার ৭৫টি। এ জেলায় ৬ হাজার ৬৪২টি খামারে ১২ হাজার ২৭৬টি ষাঁড়, তিন হাজার ২২৫টি বলদ, দুই হাজার ৪৮৫টি গাভি, ৩৫টি মহিষ, ১০ হাজার ৩৮০টি ছাগল, ১৮২টি ভেড়া ও অন্যান্য পশু ৬৯টি।

এদিকে এ বছর বরিশাল বিভাগের ৬টি জেলায় স্থায়ী ও অস্থায়ী মিলিয়ে ৪০১টি হাটে কোরবানির পশু বেচাকেনা হবে। আর ১১৯টি ভেটেরিনারি মেডিকেল টিম হাটগুলোতে কোরবানিযোগ্য পশুর সুস্থতা পরীক্ষা করবে।

বরিশাল বিভাগীয় প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের পরিচালক মো. মাহফুজুল হক বলেন, গরু পরিবহনে নৌ ও সড়কপথে এবং হাটে চাঁদাবাজি বন্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য মন্ত্রণালয়কে জানানো হয়েছে। কোনো খামারের পশু খুরা ও লাম্পি রোগে আক্রান্ত হওয়ার খবর পাওয়া যায়নি। তাই কোরবানির পশুতে সংকট হওয়ার সম্ভাবনা নেই।