
দেশের অর্ধেকেরও বেশি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেই পর্যাপ্ত চিকিৎসক। এতে ব্যাহত হচ্ছে ন্যূনতম চিকিৎসাসেবা, চরম ভোগান্তিতে পড়ছেন রোগীরা।

দেশের স্বাস্থ্য খাতে গত পাঁচ বছরে সরকারি বরাদ্দ কাগজে-কলমে দ্বিগুণ হয়েছে। তবে রোগীদের চিকিৎসা ব্যয় কমেনি, উল্টো বেড়েছে। ২০২১-২২ অর্থবছরে স্বাস্থ্য খাতে বরাদ্দ ছিল ৩২ হাজার ২৭৪ কোটি টাকা। ২০২৬-২৭ অর্থবছরে তা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৬৯ হাজার ৪০৯ কোটি টাকায়। অথচ এই সময়ে রোগীর নিজস্ব খরচ কমার বদলে বেড়

রাজধানীর মুগদা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে গত ১৪ আগস্ট ফুসফুসে ক্যানসার আক্রান্ত এক রোগীর মৃত্যুর পর চিকিৎসকদের ওপর হামলা চালান রোগীর স্বজনরা। দেশে চিকিৎসকদের এভাবে আক্রমণের শিকার হওয়ার ঘটনা নতুন নয়। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের স্বাস্থ্য অর্থনীতি ইনস্টিটিউটের জরিপ বলছে, ৭৭ শতাংশেরও বেশি চিকিৎসকের মধ্যে সঠিক

দেশের পাঁচ শতাধিক সরকারি হাসপাতালে রোগ নির্ণয়ের আধুনিক ব্যবস্থা রয়েছে। উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স, জেলা সদর হাসপাতাল, বিভাগীয় মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল ও বিশেষায়িত—এ চার শ্রেণির হাসপাতালে প্রায় ৭ হাজার ৯২ কোটি টাকার যন্ত্রপাতি রয়েছে। তবে এর সুফল পুরোটা পাচ্ছেন না সাধারণ রোগীরা। ২৪ ঘণ্টার মধ্যে এসব দামি

প্রায় এক যুগ ধরে নিয়মিত মোটরসাইকেল চালান জুয়েল রানা (৪৫)। গ্রাম থেকে ঢাকায় আসা জুয়েলের উপার্জনের একমাত্র মাধ্যম এখন মোটরসাইকেল। টানা অন্তত সাত ঘণ্টা চালাতে হয় তাকে। ফলে শরীরে, বিশেষ করে হাঁটুতে ব্যথা ও মাংসপেশিতে একধরনের কামড় অনুভব করেন জুয়েল। সেই ব্যথা দূর করতে ফুটপাতে বিক্রি হওয়া ম্যাসাজা

রোগীর কল্যাণের কথা বলে জাকাত সংগ্রহ করে আহছানিয়া মিশন ক্যানসার অ্যান্ড জেনারেল হাসপাতাল। এ ছাড়া সরকারি ও বেসরকারি সংস্থা, প্রতিষ্ঠান, ব্যক্তির থেকে প্রতি বছর বড় অঙ্কের অনুদান পায় হাসপাতালটি। কিন্তু সেই টাকা রোগীর পেছনে খরচ না করে জমা রাখছে ব্যাংকে। তাতে মিলছে বড় অঙ্কের সুদ। পাশাপাশি নিজেদের ব্যবসা প

দেশে চিকিৎসার পেছনে ১০০ টাকা খরচ হলে ৬৪ টাকাই খরচ হয় ওষুধের পেছনে। চড়া দামের ওষুধ কিনতে গিয়ে প্রতিনিয়ত হিমশিম খাচ্ছে দেশের নিম্ন ও মধ্যবিত্ত মানুষ। এই পরিস্থিতি থেকে উত্তরণে নতুন ওষুধ নীতি প্রণয়নের উদ্যোগ নেয় অন্তর্বর্তী সরকার। কিন্তু শেষ পর্যন্ত পদ্ধতিগত ভুলের কারণে তা ভেস্তে যায়।

রাজধানীর শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে সচল যন্ত্রপাতি বিকল দেখিয়ে মেরামতের নামে লোপাট করা হয়েছে প্রায় ৪৭ লাখ টাকা। এ ঘটনায় হাসপাতালের সাবেক পরিচালক, বর্তমান ভারপ্রাপ্ত পরিচালক ও এক স্টোরকিপারের নাম সামনে এসেছে। অথচ হাসপাতালটিতে অচল পড়ে আছে ১০০ কোটি টাকার তিন শতাধিক জীবনরক্ষাকারী যন্

চিকিৎসার জন্য রোগীদের বিদেশ যাওয়ার প্রবণতা কমাতে এবং এ খাতে বৈদেশিক মুদ্রা সাশ্রয়ে দেশের স্বাস্থ্য খাতে বড় সুযোগ তৈরি হচ্ছে। চীনের সঙ্গে সরকার-সরকার (জি-টু-জি) পর্যায়ে দেশে তৈরি হতে যাচ্ছে ২০টি আধুনিক ও বিশেষায়িত হাসপাতাল। এগুলোর মোট শয্যাসংখ্যা হবে ২১ হাজার। এ ছাড়া জরুরি চিকিৎসা সেবা ত্বরান্ব

করোনা মহামারির সময় বিশ্বব্যাংকের অর্থায়ন ও সরকারি বরাদ্দে দেশে ১৬২টি আরটি-পিসিআর ল্যাব বসানো হয়। এগুলো স্থাপনে খরচ হয় প্রায় ২১১ কোটি টাকা। কিন্তু করোনা পরিস্থিতির উন্নতি এবং প্রকল্পের মেয়াদ শেষ হওয়ার পর জনবল ও রক্ষণাবেক্ষণের অভাবে এগুলোর বেশির ভাগই এখন অকেজো। সরকারি কাগজপত্রে ২৩টি ল্যাব সচল

দুই বছর আগে আবেদন করেও ঔষধ প্রশাসন অধিদপ্তর (ডিজিডিএ) থেকে মেলেনি দাম নির্ধারণের অনুমোদন। ফলে দেশে উৎপাদিত প্রায় ২০ কোটি টাকার ওষুধের কাঁচামাল বাজারে ছাড়তে পারছে না প্রতিষ্ঠানগুলো। বিক্রি না হওয়ায় গুদামেই মেয়াদ পার হয়ে নষ্ট হতে বসেছে এসব কাঁচামাল। দেশে প্রতি বছর ওষুধের কাঁচামালের চাহিদা ১ দশ

দেশে লাইসেন্সধারী ওষুধ উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠান রয়েছে ৩২৪টি। তবে এ খাতের ৯৮ শতাংশ বাজার নিয়ন্ত্রণ করছে শীর্ষস্থানীয় ৩১টি কোম্পানি। বড় প্রতিষ্ঠানগুলোর এমন একচ্ছত্র আধিপত্যের কারণে তীব্র অস্তিত্ব সংকটে পড়েছে ছোট ও মাঝারি কোম্পানিগুলো। চলতি বছর হালনাগাদ করা ঔষধ প্রশাসন অধিদপ্তরের (ডিজিডিএ) তথ্য অনুয

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) ও ‘ডিপফেক’ প্রযুক্তির অপব্যবহার করে দেশের প্রখ্যাত কিডনি বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক ডা. কামরুল ইসলামের ছবি, আগের ভিডিও চিত্র এবং কণ্ঠস্বর হুবহু নকল (ভয়েস ক্লোন) করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভুয়া চিকিৎসাসেবা ও ওষুধের বিজ্ঞাপন ছড়ানোর অভিযোগ উঠেছে। একটি অসাধু চক্র এই ডিজিটাল জালিয়াতির

দেশে ১৫ থেকে ১৯ বছর বয়সি কিশোরীদের মধ্যে ২৩ দশমিক ২ শতাংশই ইতিমধ্যে মা হয়েছেন। এর মধ্যে ১ দশমিক ২ শতাংশ মা হয়েছেন ১৫ বছর হওয়ার আগেই। ‘মাল্টিপল ইন্ডিকেটর ক্লাস্টার সার্ভে (এমআইসিএস) ২০২৫’ শীর্ষক এক প্রতিবেদনে উঠে এসেছে এমন চিত্র। যৌথভাবে এটি তৈরি করেছে বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরো (বিবিএস) ও জাতি

নিবন্ধন ছাড়াই চলছে দেশের প্রায় এক লাখ ওষুধের দোকান। আর নিবন্ধিত ফার্মেসির সংখ্যা সোয়া দুই লাখ ছাড়িয়েছে। এই সংখ্যা বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (ডব্লিউএইচও) মানদণ্ডের চেয়ে অনেক বেশি। তারপরও প্রতি মাসে নতুন করে অনুমোদন পাচ্ছে আরও ২৩৭টি। বিদ্যমান ফার্মেসিগুলোর ৯৩ শতাংশেই নেই সঠিক তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণ

সারা দেশে কমপক্ষে ৮৬টি সরকারি স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠান দীর্ঘদিন ধরে বন্ধ অবস্থায় পড়ে আছে। অথচ এসব প্রতিষ্ঠানের পেছনে সরকারের ব্যয় হয়েছে অন্তত চার হাজার ২৫৮ কোটি টাকা। অবকাঠামো আছে, যন্ত্রপাতি আছে, কিন্তু নেই পর্যাপ্ত জনবল। এই একটিমাত্র কারণে এসব প্রতিষ্ঠানের চিকিৎসাসেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন রোগীরা