তুরস্ককে ‘শত্রু’ ঘোষণা করতে পারে ইসরায়েল

ইরানের পর নতুন ‘শত্রু’ হিসেবে তুরস্কের নাম ঘোষণা করতে পারে ইসরায়েল—এমন সতর্কবার্তা দিয়েছেন তুর্কি পররাষ্ট্রমন্ত্রী হাকান ফিদান। তার মতে, ইসরায়েলের কৌশলগত কারণে সবসময় একটি প্রতিপক্ষ রাখতে চায়, যা আঞ্চলিক স্থিতিশীলতার জন্য বড় ঝুঁকি।
সোমবার তুর্কি বার্তা সংস্থা আনাদোলু এজেন্সিকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ফিদান বলেন, ইসরায়েল শত্রু ছাড়া বাঁচতে পারে না। তাই ইরানের পর তুরস্ককে শত্রু হিসেবে ঘোষণা করতে পারে ইসরায়েল।
একই সঙ্গে তিনি গুরুত্বপূর্ণ বৈশ্বিক সমুদ্রপথ সুরক্ষার প্রশ্নেও সতর্কতা তুলে ধরেন। ফিদান বলেন, সামরিক পন্থায় এসব পথ নিরাপদ রাখা অত্যন্ত জটিল কাজ। বিশেষ করে হরমুজ প্রণালির মতো গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি রুটে কূটনৈতিক সমাধানই সবচেয়ে কার্যকর।
তিনি বলেন, বিশ্বের সবাই চায় আন্তর্জাতিক যাতায়াত অবাধ থাকুক, কোনো ধরনের বাধা সৃষ্টি না হোক।
ফিদান আরও বলেন, শক্তি প্রয়োগ করে এই রুটে স্থিতিশীলতা আনা সম্ভব নয়। আমাদের অবস্থান হলো শান্তিপূর্ণ উপায়ে এটি পুনরায় খুলে দেওয়া হোক। এখানে আন্তর্জাতিক সশস্ত্র বাহিনী মোতায়েন অনেক জটিল বিষয়।
যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান প্রসঙ্গে তিনি বলেন, উভয় পক্ষই উত্তেজনা কমানোর প্রয়োজনীয়তা উপলব্ধি করছে এবং যুদ্ধবিরতির বিষয়ে আন্তরিক।
তার মতে, যদি দুই দেশের মধ্যে সমঝোতা হয়, তাহলে ৪৫ থেকে ৬০ দিনের একটি যুদ্ধবিরতির সম্ভাবনা তৈরি হতে পারে।
ইসরায়েলের আঞ্চলিক কৌশলের সমালোচনা করে ফিদান বলেন, দেশটির নীতিতে ক্রমাগত নতুন হুমকি চিহ্নিত করার প্রবণতা রয়েছে, যা সংঘাতকে দীর্ঘায়িত করে। তার মতে, এ ধরনের কৌশল মধ্যপ্রাচ্যে অস্থিরতা আরও বাড়িয়ে দিতে পারে।
সিরিয়া পরিস্থিতিকে তুরস্কের নিরাপত্তার জন্য বড় ঝুঁকি হিসেবে উল্লেখ করে ফিদান। তিনি বলেন, সিরিয়াকে আমরা একটি বড় সমস্যা হিসেবে দেখছি। এটি আমাদের জন্য বড় ঝুঁকি।
এছাড়া গ্রিস, গ্রিক সাইপ্রিয়ট প্রশাসন ও ইসরায়েলকে নিয়ে গঠিত আঞ্চলিক সহযোগিতা কাঠামোর সমালোচনা করে তিনি বলেন, এসব উদ্যোগ আস্থা বাড়ায় না, বরং অবিশ্বাস ও সংঘাত উসকে দেয়।






