স্থায়ী চুক্তিতে পৌঁছানোর রূপরেখায় সম্মত ইরান-যুক্তরাষ্ট্র

সুইজারল্যান্ডে দীর্ঘ ১২ ঘণ্টার বৈঠকের নানা চড়াই-উতরাই পেরিয়ে অবশেষে একটি স্থায়ী চুক্তির দিকে এগোচ্ছে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্র। আগামী ৬০ দিনের মধ্যে চূড়ান্ত চুক্তিতে পৌঁছানোর সুনির্দিষ্ট রূপরেখার বিষয়ে একমত হয়েছে দুই দেশ। পাকিস্তান ও কাতারের মধ্যস্থতায় অনুষ্ঠিত উচ্চপর্যায়ের এই প্রথম অধিবেশনটি সফলভাবে শেষ হওয়ার পর মধ্যস্থতাকারীদের পক্ষ থেকে একটি যৌথ বিবৃতি দিয়ে বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়েছে।
সোমবার (২২ জুন) এক প্রতিবেদনে এ খবর জানিয়েছে সংবাদমাধ্যম আলজাজিরা। বিবৃতিতে দীর্ঘ সময় ধরে চলা এ আলোচনাকে অত্যন্ত ফলপ্রসূ এবং গঠনমূলক বলে উল্লেখ করেছেন মধ্যস্থতাকারীরা।
যৌথ বিবৃতিতে জানানো হয়েছে, দুই দেশের মধ্যে স্বাক্ষরিত হওয়া সমঝোতা স্মারকের ওপর ভিত্তি করে পরবর্তী পদক্ষেপগুলো নেওয়া হবে। আলোচনার এই ধারা বজায় রাখতে চলতি সপ্তাহের মধ্যে সুইজারল্যান্ডে কারিগরি পর্যায়ের বৈঠক শুরু হতে যাচ্ছে।
মধ্যস্থতা প্রক্রিয়াটির ওপর রাজনৈতিক তদারকি ও নজরদারি বজায় রাখার জন্য ইতোমধ্যে একটি উচ্চপর্যায়ের কমিটি গঠন করা হয়েছে। পাশাপাশি ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি, অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা এবং সার্বিক পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ ও বিরোধ নিষ্পত্তির মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলো নিয়ে আলাদাভাবে আলোচনার জন্য কয়েকটি উপকমিটি করা হয়েছে। এই কমিটিই মূলত আগামী দুই মাসের মধ্যে স্থায়ী চুক্তিতে পৌঁছানোর রূপরনখা বাস্তবায়নে কাজ করবে।
এদিকে এই ৬০ দিনের চুক্তি প্রক্রিয়াকালীন যেকোনো ধরনের সংঘাত এড়াতে সব পক্ষের জন্য একটি সার্বক্ষণিক বিশেষ যোগাযোগ লাইন চালুর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। মূলত হরমুজ প্রণালি যেন এই সময়ে সব ধরনের বাণিজ্যিক জাহাজের জন্য সম্পূর্ণ উন্মুক্ত এবং নিরাপদ থাকে, সেটি নিশ্চিত করতে এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
পাশাপাশি মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা কশাতে বেশ কিছু সিদ্ধান্ত ওঠে এসেছে এই বৈঠক থেকে। লেবাননের বর্তমান পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ ও সেখানে শান্তি ফিরিয়ে আনার লক্ষ্যে একটি ‘ডি-কনফ্লিক্টশন সেল’ বা উত্তেজনা প্রশমন কেন্দ্র গঠনের পাশাপাশি লেবানন ভূখণ্ডে ইসরায়েলের সব ধরনের সামরিক অভিযান পুরোপুরি বন্ধ রাখার বিষয়েও পক্ষগুলো একমত হয়েছে।
আলোচনা শেষে মধ্যস্থতাকারী দেশগুলো জানিয়েছে, দীর্ঘ এই বৈঠকের সার্বিক অগ্রগতি এবং দুই দেশের গঠনমূলক মনোভাবের কারণে তারা বেশ সন্তুষ্ট। সব পক্ষ ইতিবাচক থাকলে এই রুপরেখা ধরে নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে একটি ঐতিহাসিক স্থায়ী চুক্তি সম্পন্ন করা সম্ভব হবে বলে আশা করা হচ্ছে।







