এমবাপ্পের জোড়া গোলে বিশ্বকাপে ফ্রান্সের শুভসূচনা

এশিয়া পোস্ট স্পোর্টস
এমবাপ্পের জোড়া গোলে বিশ্বকাপে ফ্রান্সের শুভসূচনা
কিলিয়ান এমবাপ্পে। ছবি: সংগৃহীত

চলতি বিশ্বকাপে ফ্রান্সের শুরুটা সহজ ছিল না। কথিত গ্রুপ অব ডেথে প্রথমার্ধে সেনেগালের গতি, চাপ আর সরাসরি ফুটবলের সামনে বেশ অস্বস্তিতে ছিল দিদিয়ে দেশমের দল। কিন্তু বড় দলগুলোর একটা আলাদা শক্তি থাকে। তারা সব সময় পুরো ম্যাচ ভালো না খেলেও ম্যাচ জিততে জানে। নিউ জার্সির মেটলাইফ স্টেডিয়ামে সেনেগালের বিপক্ষে ফ্রান্স সেটিই দেখাল। কিলিয়ান এমবাপ্পের জোড়া গোল, মাইকেল অলিসের সৃষ্টিশীলতা আর ব্র্যাডলি বারকোলার দারুণ ফিনিশিংয়ে ৩-১ গোলে জয় দিয়ে বিশ্বকাপ শুরু করল ফরাসিরা।

Advertisement

ম্যাচের গল্পটা শুধু ফ্রান্সের জয় নয়, এমবাপ্পের ইতিহাস গড়ার রাতও। সেনেগালের বিপক্ষে জোড়া গোল করে অলিভিয়ের জিরুকে ছাড়িয়ে ফ্রান্সের সর্বকালের সর্বোচ্চ গোলদাতা হয়ে গেলেন ফরাসি অধিনায়ক। বিশ্বকাপের মঞ্চে তাঁর গোলসংখ্যাও এখন ইতিহাসের বড় নামগুলোর পাশে। বড় টুর্নামেন্টে এমবাপ্পে কতটা ধারাবাহিক, এই ম্যাচ যেন আবার সেই কথাই মনে করিয়ে দিল।

তবে শুরুটা ফ্রান্সের ছিল না। দেশম আক্রমণে নামিয়েছিলেন এমবাপ্পে, উসমান দেম্বেলে, মাইকেল অলিসে ও দেসিরে দুয়ের সমন্বয়। কাগজে-কলমে ভয়ংকর আক্রমণভাগ, কিন্তু প্রথমার্ধে সেই আক্রমণে ধার ছিল কম। সেনেগাল খুব দ্রুত বুঝিয়ে দেয়, তারা শুধু প্রতিপক্ষের নাম দেখে পিছিয়ে থাকবে না।

পাপে থিয়াওয়ের দল বলের দখল কম রাখলেও পরিকল্পনায় ছিল পরিষ্কার। সুযোগ পেলেই দ্রুত আক্রমণ, সাদিও মানে, ইসমাইলা সার ও নিকোলাস জ্যাকসনের গতি দিয়ে ফরাসি রক্ষণকে চাপ দেওয়া। প্রথমার্ধে জ্যাকসনের শট পোস্টে লাগে। যোগ করা সময়ে সারও বড় সুযোগ নষ্ট করেন। সুযোগগুলো কাজে লাগাতে পারলে বিরতিতে এগিয়ে থাকতে পারত আফ্রিকান চ্যাম্পিয়নরা।

ফ্রান্সের জন্য প্রথমার্ধের সবচেয়ে ভালো খবর ছিল স্কোরলাইন। ০-০ নিয়ে বিরতিতে যেতে পারাই যেন স্বস্তি ছিল দেশমের দলের জন্য। মাঝমাঠে অরেলিয়েঁ চুয়ামেনি ও আদ্রিয়েঁ রাবিও ঠিকমতো ম্যাচের ছন্দ ধরতে পারছিলেন না। এমবাপ্পেকেও বেশির ভাগ সময় কালিদু কুলিবালি ও সেনেগালের রক্ষণ আটকে রাখে।

বিরতির পর বদলে যায় ফ্রান্স। আরও গতিময়, আরও আগ্রাসী হয়ে ওঠে তারা। অলিসে ডান দিক থেকে বারবার জায়গা তৈরি করতে থাকেন। তাঁর পাস, মুভমেন্ট ও দ্রুত সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষমতা ফ্রান্সের আক্রমণে প্রাণ ফেরায়। সেনেগাল গোলরক্ষক এদুয়ার মেন্দি কয়েকবার দলকে বাঁচান। অলিসে ও এমবাপ্পের সুযোগ ঠেকিয়ে তিনি কিছু সময় ম্যাচ ধরে রাখেন।

কিন্তু চাপটা শেষ পর্যন্ত সামলাতে পারেনি সেনেগাল। ৬৬ মিনিটে অলিসের পাস থেকেই গোল করেন এমবাপ্পে। বক্সে ঢুকে নিখুঁত ফিনিশিংয়ে ফ্রান্সকে এগিয়ে দেন তিনি। সেই গোলেই জিরুর রেকর্ড ছোঁয়ার পর যোগ করা সময়ে আরেক গোল করে তাঁকে ছাড়িয়ে যান ফরাসি অধিনায়ক।

এর মধ্যে ৮২ মিনিটে বারকোলা ম্যাচ প্রায় ফ্রান্সের হাতে এনে দেন। দেম্বেলের বদলি হিসেবে নেমে রাবিওর পাস ধরে বক্সে ঢুকে দারুণ চিপে গোল করেন পিএসজি উইঙ্গার। ফ্রান্সের বেঞ্চের গভীরতা কতটা বড় শক্তি, সেটিও এই গোলে বোঝা যায়। দেম্বেলে নিষ্প্রভ হলে বারকোলা এসে ম্যাচে ছাপ রেখে যান। পরে রায়ান চেরকির মতো খেলোয়াড়ও বেঞ্চ থেকে আসেন। এমন স্কোয়াড গভীরতা টুর্নামেন্টের দীর্ঘ পথে বড় সম্পদ।

শেষ দিকে ইব্রাহিম এমবায়ে দুর্দান্ত গোল করে সেনেগালের ব্যবধান কমান। ৯০+৫ মিনিটে তাঁর শটে ম্যাচে কিছুটা উত্তেজনা ফিরেছিল। কিন্তু এমবাপ্পে দ্রুত সেই উত্তেজনা থামিয়ে দেন। ৯০+৬ মিনিটে দূর থেকে তাঁর শক্তিশালী শট জালে জড়ালে ফ্রান্সের জয় নিশ্চিত হয়ে যায়। একই সঙ্গে নিশ্চিত হয় তাঁর ব্যক্তিগত ইতিহাসও।

সেনেগালের জন্য ম্যাচটা হতাশার, তবে পারফরম্যান্স পুরোপুরি নিরাশাজনক নয়। তারা প্রথমার্ধে ফ্রান্সকে চাপে রেখেছিল, সুযোগ তৈরি করেছে, ম্যাচে শারীরিক শক্তি ও গতি দেখিয়েছে। কিন্তু বড় দলের বিপক্ষে সুযোগ নষ্ট করলে তার মূল্য দিতে হয়। সেনেগাল সেই মূল্যই দিয়েছে।

ফল

ফ্রান্স ৩-১ সেনেগাল

গোল

ফ্রান্স: কিলিয়ান এমবাপ্পে ৬৬, ৯০+৬ মিনিট; ব্র্যাডলি বারকোলা ৮২ মিনিট

সেনেগাল: ইব্রাহিম এমবায়ে ৯০+৫ মিনিট