স্পেন ও পর্তুগালের ড্র এর পিছনে দায় রিয়াল মাদ্রিদের!

এশিয়া পোস্ট স্পোর্টস
স্পেন ও পর্তুগালের ড্র এর পিছনে দায় রিয়াল মাদ্রিদের!
ছবি: সংগৃহীত

বিশ্বকাপ মানেই শুধু গোল, পয়েন্ট টেবিল আর নকআউটের হিসাব নয়। বিশ্বকাপ মানে অদ্ভুত কাকতালীয় ঘটনা, অপ্রত্যাশিত ফল, আর কখনো কখনো এমন গল্প, যেটি সিরিয়াস না হলেও পড়তে মজা লাগে। এবারের বিশ্বকাপে তেমনই এক মজার গল্পের কেন্দ্রে এসে পড়েছে স্প্যানিশ জায়ান্ট রিয়াল মাদ্রিদ।

Advertisement

ঘটনাটা সহজ। রিয়াল মাদ্রিদ মার্ক কুকুরেয়াকে দলে নেওয়ার পর স্পেন কেপ ভার্দের সঙ্গে ড্র করল। এরপর রিয়াল বার্নার্দো সিলভাকে দলে নেওয়ার ঘোষণা দিল, পর্তুগালও ডিআর কঙ্গোর সঙ্গে ড্র করল। দুই নতুন রিয়াল-সাইনিং, দুই ইউরোপীয় ফেভারিট, দুই অপ্রত্যাশিত ড্র। কাকতালীয়? অবশ্যই। কিন্তু বিশ্বকাপের গল্প হিসেবে মজার? সেটাও অবশ্যই।

শুরুটা স্পেনকে দিয়ে। বিশ্বকাপের আগে স্পেনকে ধরা হচ্ছিল শক্তিশালী দলগুলোর একটি হিসেবে। স্কোয়াডে তারুণ্য, টেকনিক্যাল মান, দখলভিত্তিক ফুটবল—সব মিলিয়ে অনেকেই ভেবেছিলেন কেপ ভার্দের বিপক্ষে তাদের শুরুটা হবে দাপুটে। প্রতিপক্ষ প্রথমবারের মতো বিশ্বকাপ খেলছে, তাই প্রত্যাশাও ছিল একপেশে জয়ের।

কিন্তু মাঠে হলো উল্টো। স্পেন গোলই করতে পারল না। কেপ ভার্দে তাদের আটকে দিল ০-০ গোলে। বিশ্বকাপের প্রথম ম্যাচেই পয়েন্ট হারাল স্পেন। আর এই ম্যাচেই স্পেনের একাদশে ছিলেন রিয়াল মাদ্রিদের নতুন সাইনিং মার্ক কুকুরেয়া।

রিয়াল মাদ্রিদ বিশ্বকাপের মাঝেই ঘোষণা করেছিল, তারা চেলসি থেকে কুকুরেয়াকে দলে নিয়েছে। সেই কুকুরেয়া আবার স্পেনের রক্ষণের গুরুত্বপূর্ণ অংশ। অর্থাৎ বিশ্বকাপে নামার সময় স্পেন দলে ছিলেন এক নতুন ‘মাদ্রিদিস্তা’। তারপর? প্রত্যাশিত জয় এল না, এল ড্র।

এটা নিছক কাকতালীয়? নিশ্চয়ই। স্পেনের ড্রয়ের পেছনে কুকুরেয়া নন, বরং কেপ ভার্দের সংগঠিত রক্ষণ, গোলরক্ষক ভোজিনিয়ার অসাধারণ পারফরম্যান্স এবং বড় মঞ্চে ভয় না পাওয়ার মানসিকতা বড় কারণ। কিন্তু বিশ্বকাপ তো শুধু যুক্তির জায়গা নয়, গল্পেরও জায়গা।

এরপর আসি পর্তুগালে। ক্রিস্টিয়ানো রোনালদোর দল, ব্রুনো ফার্নান্দেস, ভিতিনিয়া, জোয়াও নেভেস, বার্নার্দো সিলভাদের মাঝমাঠ—ডিআর কঙ্গোর বিপক্ষে পর্তুগালকেও ধরা হচ্ছিল পরিষ্কার ফেভারিট। ম্যাচে তারা আগে গোলও করেছিল। কিন্তু এরপর খেলা এমন জায়গায় যায়, যেখানে পর্তুগালকে জয়ের চেয়ে ড্র বাঁচাতেই বেশি লড়তে হয়েছে মনে হয়। শেষ পর্যন্ত ম্যাচ ১-১।

এখানেও রিয়াল মাদ্রিদ ঢুকে পড়ে গল্পে। পর্তুগালের ম্যাচের দিনই রিয়াল ঘোষণা করে, ম্যানচেস্টার সিটি ছেড়ে বার্নার্দো সিলভা ফ্রি ট্রান্সফারে তাদের দলে যোগ দিচ্ছেন। বার্নার্দো শুধু পর্তুগালের স্কোয়াডের আরেকজন খেলোয়াড় নন, তিনি দলের সৃজনশীল কাঠামোর গুরুত্বপূর্ণ অংশ। ঘোষণা হলো, তারপর পর্তুগালও ড্র করল।

আবারও বলা দরকার, এটিও নিছক কাকতালীয়। পর্তুগালের ড্রয়ের পেছনে ছিল ডিআর কঙ্গোর শৃঙ্খলিত ফুটবল, সেট পিসে দক্ষতা এবং পর্তুগালের আক্রমণে ধার না থাকা। ডিআর কঙ্গো সমতা ফেরায় কর্নার থেকে, আর দ্বিতীয়ার্ধে পর্তুগাল যথেষ্ট চাপ তৈরি করলেও জয়সূচক গোল বের করতে পারেনি।

তবু ঘটনাগুলোর টাইমিং এত মজার যে গল্প তৈরি হবেই। একদিকে রিয়াল মাদ্রিদ নতুন মৌসুমের জন্য দল গোছাচ্ছে, অন্যদিকে তাদের নতুন সাইনিংদের জাতীয় দল বিশ্বকাপে প্রথম ম্যাচেই আটকে যাচ্ছে। কুকুরেয়া ঘোষণা, স্পেন ড্র। বার্নার্দো ঘোষণা, পর্তুগাল ড্র। বিশ্বকাপের কাকতালীয়তা এত নিখুঁত হলে সেটাকে গল্প না বানিয়ে উপায় কী?

তাই আপাতত বিশ্বকাপের সবচেয়ে মজার ‘রিয়াল মাদ্রিদ থিওরি’ দাঁড়াচ্ছে দুই ম্যাচে। স্পেন ও পর্তুগাল—দুই ইউরোপীয় ফেভারিট। দুজনেরই স্কোয়াডে রিয়ালের নতুন সাইনিং। দুজনই প্রথম ম্যাচে প্রত্যাশিত জয় পায়নি।

এটা অভিশাপ নয়। এটা ষড়যন্ত্রও নয়। এটা বিশ্বকাপের সেই অদ্ভুত জাদু, যেখানে ফুটবল কখনো কখনো সংখ্যার চেয়ে গল্পে বেশি মজা দেয়।

রিয়াল মাদ্রিদ নিশ্চয়ই চিন্তিত নয়। তারা কুকুরেয়া ও বার্নার্দোকে ক্লাবের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনার অংশ হিসেবেই নিয়েছে। কিন্তু বিশ্বকাপের দর্শকদের জন্য এই কাকতালীয় মিল এখন নতুন মজা—রিয়াল কাউকে সাইন করলেই কি তার জাতীয় দল ড্র করে?

পরের সাইনিংয়ের দিন তাই হয়তো ফুটবল ভক্তরা শুধু ট্রান্সফার নিউজ দেখবেন না। দেখবেন, সেই খেলোয়াড়ের জাতীয় দল সেদিন মাঠে নামছে কি না।