ভ্রমণ বিধিনিষেধ নিয়ে ফিফায় অভিযোগ জানাচ্ছে ইরান

এশিয়া পোস্ট স্পোর্টস
ভ্রমণ বিধিনিষেধ নিয়ে ফিফায় অভিযোগ জানাচ্ছে ইরান
ইরান ফুটবল দল। ছবি: সংগৃহীত

বিশ্বকাপে ভ্রমণ বিধিনিষেধ নিয়ে ফিফার কাছে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ জানাতে যাচ্ছে ইরান। যুক্তরাষ্ট্রে নিজেদের গ্রুপ ম্যাচ খেলতে গিয়ে দলটিকে ম্যাচের ২৪ ঘণ্টার মধ্যে প্রবেশ করতে হচ্ছে এবং ম্যাচ শেষের দিনই দেশ ছাড়তে হচ্ছে। ইরান ফুটবল ফেডারেশনের দাবি, এই পরিস্থিতি তাদের প্রস্তুতিতে প্রভাব ফেলছে এবং অংশগ্রহণকারী দলগুলোর জন্য সমান সুযোগের নীতির সঙ্গে সাংঘর্ষিক।

Advertisement

যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা ও মেক্সিকোর যৌথ আয়োজনে চলা এবারের বিশ্বকাপে ইরান মেক্সিকোকে ঘাঁটি হিসেবে ব্যবহার করছে। ভিসা অনিশ্চয়তা এবং যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে রাজনৈতিক উত্তেজনার কারণে দলটি যুক্তরাষ্ট্রে দীর্ঘ সময় অবস্থান করতে পারছে না। ফলে যুক্তরাষ্ট্রে ম্যাচ থাকলেই তাদের মেক্সিকো থেকে যাতায়াত করতে হচ্ছে।

ইরান ফুটবল ফেডারেশন শুক্রবার এক বিবৃতিতে জানায়, দলটির পরিকল্পনা ছিল প্রতিটি ম্যাচের দুই দিন আগে সংশ্লিষ্ট শহরে পৌঁছে সেখানকার পরিবেশের সঙ্গে মানিয়ে নেওয়া, অনুশীলন করা এবং ম্যাচের পরের দিন বেস ক্যাম্পে ফেরা। কিন্তু নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে প্রথম ম্যাচের আগে সেই অনুরোধ অনুমোদন করা হয়নি।

গ্রুপ ‘জি’র প্রথম ম্যাচে নিউজিল্যান্ডের সঙ্গে ২-২ গোলে ড্র করে ইরান। ম্যাচের পর কোচ আমির গালেনোয়ি বলেন, ভ্রমণ জটিলতা তাদের প্রস্তুতিতে প্রভাব ফেলেছে। তার দাবি, ইরান এবারের বিশ্বকাপে সবচেয়ে বেশি বাধার মুখে পড়া দলগুলোর একটি।

ইরান ফুটবল ফেডারেশনের বক্তব্য, বর্তমান বিধিনিষেধ দলটির টেকনিক্যাল ও শারীরিক প্রস্তুতিকে ক্ষতিগ্রস্ত করছে। বিশ্বকাপের মতো প্রতিযোগিতায় একই ধরনের প্রস্তুতির সুযোগ পাওয়া গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করে তারা। এ কারণেই বিষয়টি ফিফার কাছে আনুষ্ঠানিকভাবে তোলা হবে।

রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ফিফা কিংবা যুক্তরাষ্ট্রের হোমল্যান্ড সিকিউরিটি বিভাগ তাৎক্ষণিকভাবে এ বিষয়ে মন্তব্য করেনি। ফলে এখনও পরিষ্কার নয়, ইরানের অভিযোগের পর ফিফা কোনো পদক্ষেপ নেবে কি না বা যুক্তরাষ্ট্রের প্রবেশ শর্তে কোনো পরিবর্তন আসবে কি না।

ইরানের সামনে এখন গুরুত্বপূর্ণ দুই ম্যাচ। ২১ জুন লস অ্যাঞ্জেলেসে বেলজিয়ামের মুখোমুখি হবে তারা। এরপর ২৭ জুন সিয়াটলে গ্রুপের শেষ ম্যাচে মিসরের বিপক্ষে খেলবে গালেনোয়ির দল। মাঠের লড়াইয়ের পাশাপাশি ভ্রমণ জটিলতাও তাই ইরানের বিশ্বকাপ অভিযানে বড় আলোচনার বিষয় হয়ে উঠেছে।