প্যানিক নাকি হার্ট অ্যাটাক, জীবন বাঁচাতে জানুন পার্থক্য

এশিয়া পোস্ট ডেস্ক
প্যানিক নাকি হার্ট অ্যাটাক, জীবন বাঁচাতে জানুন পার্থক্য
ছবি : এআই

রাতে হঠাৎ বুক ধড়ফড় করা, বুক চেপে আসা, ঘাম হওয়া কিংবা শ্বাস নিতে কষ্ট হওয়া অনেকের কাছেই ভয়ের অভিজ্ঞতা। এমন অবস্থায় অনেকেই বুঝতে পারেন না এটি প্যানিক অ্যাটাক, নাকি হার্ট অ্যাটাকের লক্ষণ। কারণ, দুই ক্ষেত্রেই কিছু উপসর্গ প্রায় একই রকম দেখা যায়। তবে বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই দুই অবস্থার পার্থক্য দ্রুত বুঝতে পারা খুবই গুরুত্বপূর্ণ। কারণ, সময়মতো সঠিক সিদ্ধান্ত জীবন বাঁচাতে পারে।

Advertisement

প্যানিক অ্যাটাক এবং হার্ট অ্যাটাক কেন একই রকম মনে হয়

তীব্র মানসিক চাপ বা ভয় অনুভব করলে শরীর ফাইট অথবা ফ্লাইট মোডে চলে যায়। তখন শরীরে অ্যাড্রেনালিন হরমোন বেড়ে যায়। এর ফলে হৃদস্পন্দন দ্রুত হয়, বুক ভারী লাগে, ঘাম হয় এবং শ্বাসকষ্ট দেখা দিতে পারে।

হার্ট অ্যাটাকের সময়ও অনেকটা একই ধরনের উপসর্গ হয়। তবে পার্থক্য হলো, হার্ট অ্যাটাকে হৃদযন্ত্রে রক্ত সরবরাহ কমে যায় বা বন্ধ হয়ে যায়, যা প্রাণঘাতী হতে পারে।

কোন লক্ষণগুলো হার্ট অ্যাটাকের দিকে ইঙ্গিত দেয়

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, কিছু নির্দিষ্ট লক্ষণ হার্ট অ্যাটাকের ঝুঁকি বোঝাতে পারে।

ব্যথা ছড়িয়ে পড়া: হার্ট অ্যাটাকের ব্যথা সাধারণত শুধু বুকের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকে না। এটি বাম হাত, কাঁধ, চোয়াল, ঘাড় বা পিঠ পর্যন্ত ছড়িয়ে যেতে পারে।

হাঁটাচলা করলে ব্যথা বাড়া: সিঁড়ি ওঠা, হাঁটা বা ভারী কিছু তুললে যদি বুকের চাপ বা ব্যথা বাড়ে, তাহলে এটি হার্টের সমস্যার লক্ষণ হতে পারে।

অতিরিক্ত ঘাম ও বমিভাব: হার্ট অ্যাটাকের সময় অনেকের ঠান্ডা ঘাম, বমিভাব, মাথা ঘোরা বা অস্বাভাবিক দুর্বলতা দেখা দেয়।

দীর্ঘসময় উপসর্গ থাকা: হার্ট অ্যাটাকের উপসর্গ সাধারণত ১৫ মিনিটের বেশি স্থায়ী হয় এবং ধীরে ধীরে বাড়তে পারে।

নারীদের ক্ষেত্রে ভিন্ন লক্ষণ

গবেষণায় দেখা গেছে, নারীদের হার্ট অ্যাটাকের সময় সবসময় তীব্র বুকব্যথা নাও- হতে পারে। অনেক সময় চোয়াল ব্যথা, পিঠে চাপ, বমিভাব বা শ্বাসকষ্টই প্রধান লক্ষণ হয়ে ওঠে।

প্যানিক অ্যাটাকের লক্ষণ কীভাবে আলাদা

প্যানিক অ্যাটাক মূলত শরীরের স্নায়বিক প্রতিক্রিয়া। এটি ভয়ংকর মনে হলেও সাধারণত হৃদযন্ত্রের স্থায়ী ক্ষতি করে না।

হাত-পা ঝিনঝিন করা: দ্রুত শ্বাস নেওয়ার কারণে শরীরে কার্বন ডাই অক্সাইডের ভারসাম্য বদলে যায়। এতে হাত-পা বা ঠোঁটের চারপাশে ঝিনঝিন অনুভূতি হতে পারে।

উপসর্গ কমে যাওয়া: প্যানিক অ্যাটাক সাধারণত ২০ থেকে ৩০ মিনিটের মধ্যে ধীরে ধীরে কমে আসে। শরীর দীর্ঘসময় একই মাত্রার অ্যাড্রেনালিন ধরে রাখতে পারে না।

মানসিক চাপের সম্পর্ক: অনেক ক্ষেত্রে দীর্ঘদিনের উদ্বেগ, মানসিক চাপ বা আবেগগত ক্লান্তির সঙ্গে প্যানিক অ্যাটাকের সম্পর্ক থাকে।

কখন জরুরি চিকিৎসা নিতে হবে

চিকিৎসকদের মতে, বুকের ব্যথাকে কখনোই হালকাভাবে নেওয়া উচিত নয়। যদি বুকের চাপ বা ব্যথা হাত, চোয়াল বা পিঠে ছড়িয়ে যায়, হাঁটাচলায় বাড়ে বা ১৫ মিনিটের বেশি থাকে, তাহলে দ্রুত জরুরি চিকিৎসা নিতে হবে।

বিশেষ করে যাদের উচ্চ রক্তচাপ, ডায়াবেটিস, কোলেস্টেরল, পারিবারিক হৃদরোগের ইতিহাস বা ধূমপানের অভ্যাস আছে, তাদের ক্ষেত্রে ঝুঁকি আরও বেশি।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, আগে থেকেই প্যানিক অ্যাটাকের ইতিহাস থাকলে ধীরে ধীরে গভীর শ্বাস নেওয়া এবং শান্ত থাকার চেষ্টা উপকার করতে পারে। তবে সন্দেহ হলে দেরি না করে হাসপাতালে যাওয়াই সবচেয়ে নিরাপদ সিদ্ধান্ত। কারণ, সময়মতো চিকিৎসা পেলে হার্ট অ্যাটাকের ক্ষতি অনেকটাই কমানো সম্ভব।

সূত্র: এনডিটিভি