চার লেনের সড়কে দুই লেনের সেতু, ভোগান্তি বাড়ছে মানিকগঞ্জে

মানিকগঞ্জ বাসস্ট্যান্ড থেকে বেউথা পর্যন্ত প্রায় ৩৮ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত চার লেনের সড়কের শতভাগ সুফল পাচ্ছেন না জেলাবাসী। সড়কের কাজ বহু আগে শেষ হলেও শহরের প্রাণকেন্দ্রের খালপাড় সেতুটি এখনও দুই লেনের রয়ে গেছে। ফলে জেলা প্রশাসকের কার্যালয়, পুলিশ সুপারের দপ্তর ও বাণিজ্যিক এলাকাসহ গুরুত্বপূর্ণ স্থানে যাতায়াতের একমাত্র মাধ্যম এই সেতুটি এখন চরম যানজট ও জনদুর্ভোগের প্রধান কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। জমি সংক্রান্ত মামলার জটিলতায় বিগত ছয় বছর ধরে আটকে আছে নতুন সেতু নির্মাণ কাজ।
সরেজমিনে দেখা যায়, ১৯৭৬ সালে নির্মিত এই জরাজীর্ণ সেতুর দুই পাশে মোট ছয়টি সংযোগ সড়ক যুক্ত হয়েছে। এক পাশে সেওতা, থানা রোড ও বাসস্ট্যান্ডমুখী তিনটি এবং অপর পাশে বান্দুটিয়া, বেউথা ও শহরে প্রবেশের আরও তিনটি সড়ক এসে মিশেছে এই সেতুতে। চার লেন সড়ক চালু হওয়ার পর যানবাহনের চাপ কয়েকগুণ বাড়লেও সেতুটি সংকীর্ণ হওয়ায় সেখানে প্রতিনিয়ত তৈরি হচ্ছে তীব্র যানজট। সকাল থেকে রাত পর্যন্ত ট্রাফিক পুলিশ মোতায়েন থাকলেও পরিস্থিতির কোনো উন্নতি হচ্ছে না।
স্থানীয় মুদি দোকানি রাব্বি মিয়া জানান, অতিরিক্ত যানবাহনের চাপে সেতু এলাকায় প্রায় প্রতিদিনই ছোটখাটো দুর্ঘটনা ঘটছে। পথচারী সোহরাব হোসেন ও রিকশাচালক সোহেল মুন্সির মতে, চার লেনের সড়ক মানিকগঞ্জের জন্য বড় উন্নয়ন হলেও, খালপাড় সেতু প্রশস্ত না হওয়ায় মানুষ সুফলের চেয়ে ভোগান্তিই বেশি পাচ্ছে।
সড়ক ও জনপথ (সওজ) বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, ২০১৯-২০ অর্থবছরে প্রায় ৩৮ কোটি ৩৭ লাখ টাকা ব্যয়ে বাসস্ট্যান্ড থেকে বেউথা পর্যন্ত সড়কটি চার লেনে উন্নীত করা হয়। তবে জমির রেকর্ড সংক্রান্ত মামলার কারণে গত ছয় বছর ধরে নতুন সেতু নির্মাণ কাজ থমকে আছে। বর্তমানে ক্ষতিগ্রস্ত পুরনো সেতুটি জোড়াতালি দিয়ে সংস্কার করে চালানো হচ্ছে।
এদিকে, জনভোগান্তি নিরসনে চলতি বছরের ৩১ মার্চ বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রী আফরোজা খানমের পক্ষ থেকে সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয়ে একটি ডি.ও (আধা-সরকারি) লেটার পাঠানো হয়েছে। যেখানে পিএমপি (মেজর-সেতু) কর্মসূচির আওতায় দ্রুত একটি প্রশস্ত সেতু নির্মাণের অনুরোধ জানানো হয়।
মানিকগঞ্জ সড়ক ও জনপথ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. শাহরিয়ার আলম বলেন, সেতুর উত্তর পাশে ট্রাফিক পুলিশের জায়গা নিয়ে একটি মামলা চলমান থাকায় নতুন সেতু নির্মাণ সম্ভব হচ্ছে না। বিষয়টি গুরুত্বসহকারে দেখা হচ্ছে।
মানিকগঞ্জের পুলিশ সুপার সারওয়ার আলম বলেন, সেতুর উত্তর পাশের জমি নিয়ে মামলা আদালতে বিচারাধীন। আদালতের রায় অনুযায়ীই পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তবে জনগণের দুর্ভোগ কমাতে সমন্বিত যেকোনো সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নে পুলিশ প্রস্তুত রয়েছে।







