
চট্টগ্রাম নগরীর কোতোয়ালী থানা এলাকায় চাঁদা দাবি ও মানসিক নির্যাতনের অভিযোগ তুলে ফেসবুক লাইভে এসে এক ব্যবসায়ী বিষপান করে আত্মহত্যা চেষ্টার ঘটনা ঘটেছে। তিনি চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
শনিবার (২০ জুন) চমেক হাসপাতাল পুলিশ ফাঁড়ির পরিদর্শক নুরুল আলম আশেক ওই ব্যবসায়ীর হাসপাতালে ভর্তির বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
তিনি জানান, সুমন ঘোষ নামের ওই ব্যক্তি জানিয়েছেন দোকান ভাড়া ও মালিকানা নিয়ে মানসিক নির্যাতনের কারণে তিনি ফেসবুক লাইভে এসে বিষপান করেন। বর্তমানে তিনি হাসপাতালের ১৪ নম্বর ওয়ার্ডে চিকিৎসাধীন। চিকিৎসকরা জানিয়েছেন তার শারীরিক অবস্থা স্থিতিশীল রয়েছে।
ব্যবসায়ী সুমন ঘোষ নগরীর বক্সির হাট এলাকার ‘স্বপন ঘোষ অ্যান্ড সন্স’ নামের একটি মসলার দোকানের স্বত্ত্বাধিকারী।
শুক্রবার রাতে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে সুমন ঘোষকে তিন স্থানীয় বাসিন্দার বিরুদ্ধে অভিযোগ করতে দেখা যায়। তিনি দাবি করেন, বিগত সরকারের পতনের পর স্থানীয় শমসের আলী, শাহাদাত আলী ও আইয়ুব আলী নামের তিন ভাই (যাদেরকি তিনি ‘বিএনপি নামধারী’ বলে উল্লেখ করেন) তার কাছে চাঁদা দাবি করে আসছিলেন।
সুমন ঘোষ লাইভে বলেন, “আমি চাঁদা দিতে অপরাগতা জানালে তারা আমাকে ‘আওয়ামী লীগ’ সাজিয়ে পাঁচ মাস জেল খাটায়। আমি জেলে থাকা অবস্থায় তারা আমার স্ত্রীকে জোর করে নিয়ে গিয়ে দোকানের নামে স্ট্যাম্প করায় এবং দাবি করে দোকানটি তারা আমার স্ত্রীকে ভাড়া দিয়েছে।”
তিনি আরওবলেন, ‘এই দোকান আমার বাবা নিয়েছিলেন। ১৯৯৬ সাল থেকে আমি মূল জমিদার নূরনাহার বেগমের কাছ থেকে এটি ভাড়া নিয়ে ব্যবসা করছি। এখন তারা জমিদারের নাম ভাঙিয়ে আমার কাছ থেকে জোরপূর্বক টাকা নিতে চায় এবং এলাকা ছেড়ে চলে যাওয়ার হুমকি দিচ্ছে। এই মানসিক টেনশন সহ্য করতে না পেরে আমি আত্মহত্যার সিদ্ধান্ত নিয়েছি।’
ভিডিওর শেষ অংশে তিনি হাতে থাকা একটি বোতল থেকে তরল বিষ পান করেন বলে উল্লেখ করেন। বিএনপির শীর্ষ নেতৃত্বের দৃষ্টি আকর্ষণ করে বিচার দাবি করেন।
এ বিষয়ে চট্টগ্রাম নগর বিএনপির সদস্য সচিব মো. নাজিমুর রহমান বলেন, যে ব্যক্তি লাইভে এসে আত্মহত্যার চেষ্টা করেছেন, তিনি চাঁদা দাবির বিষয়ে আগে থানায় কোনো অভিযোগ বা আমাদের কিছু জানাননি। কারও কাছে কেউ চাঁদা চাইলে প্রথমে আইনের আশ্রয় নেওয়া উচিত। দোকানের মালিকানা বা কোনো আর্থিক লেনদেন নিয়ে আগে থেকে কোনো সমস্যা ছিল কি না, তা খতিয়ে দেখা দরকার।
কোতোয়ালী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবু জায়েদ নাজমুন নূর জানান, পুলিশ সব কিছু খতিয়ে দেখছে।




