ভারী বৃষ্টি আর পাহাড়ি ঢলে তিস্তাপাড়ে বন্যা আতঙ্ক

ভারতের পশ্চিমবঙ্গ ও সিকিমে ভারী বৃষ্টিপাতের কারণে উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলে দেশের বৃহত্তম সেচ প্রকল্প তিস্তা ব্যারাজ পয়েন্টে নদীর পানি বৃদ্ধি পেয়েছে। এতে লালমনিরহাটের তিস্তার চরাঞ্চল ও নিম্নাঞ্চলের মানুষের মধ্যে চরম আতঙ্ক দেখা দিয়েছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে তিস্তা ব্যারাজের ৪৪টি জলকপাট খুলে রেখেছে কর্তৃপক্ষ।
রোববার (২১ জুন) বেলা ৩টায় ডালিয়া পয়েন্টে তিস্তার পানি বিপৎসীমার ১৫ সেন্টিমিটার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হতে দেখা গেছে। এর আগে সকাল ৬টায় পানির স্তর বিপৎসীমার ৩৫ সেন্টিমিটার নিচে এবং শনিবার একই সময়ে ১৩ সেন্টিমিটার নিচে ছিল।
বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্র জানিয়েছে, আপাতত পানি কিছুটা কমতে শুরু করলেও বন্যার শঙ্কা কাটেনি। আগামী পাঁচ দিন রংপুরসহ ভারতের পশ্চিমবঙ্গে ভারী থেকে অতিভারী বৃষ্টিপাতের পূর্বাভাস রয়েছে। এর ফলে আগামী ৭২ ঘণ্টায় তিস্তা, ধরলা ও দুধকুমার নদীর পানি বৃদ্ধি পেয়ে লালমনিরহাট, রংপুর, নীলফামারী ও কুড়িগ্রামের নিচু এলাকা প্লাবিত হয়ে স্বল্পমেয়াদী বন্যা দেখা দিতে পারে।
এদিকে, পানির তীব্র স্রোতের আঘাতে গঙ্গাচড়া মহিপুর-কাকিনা আঞ্চলিক সড়কে তিস্তা সড়ক সেতুর উত্তর-পশ্চিম প্রান্তে ভয়াবহ ভাঙন দেখা দিয়েছে। সেতুর সুরক্ষা বাঁধের সিসি (কংক্রিট) ব্লক ধসে পড়ে বাঁধের একটি অংশ নদীগর্ভে বিলীন হয়েছে। এতে সেতু ও আঞ্চলিক সড়কসহ আশপাশের অন্তত ছয়টি গ্রামের হাজারো মানুষ ও বিস্তীর্ণ কৃষিজমি নতুন করে ঝুঁকির মুখে পড়েছে।

হাতীবান্ধার গড্ডিমারী গ্রামের কৃষক আনোয়ারুল হক বলেন, সকাল থেকে পানি বাড়ছে। শুনছি ভারত পানি ছেড়ে দিয়েছে। পানি এভাবে বাড়তে থাকলে চরাঞ্চলের ধানের চারা, বাদাম ও মিষ্টিকুমড়াসহ বিভিন্ন ফসলের ব্যাপক ক্ষতি হবে।
তিস্তাপাড়ের আরেক কৃষক সুমন মিয়া বলেন, তিস্তার পানি বাড়ছে-কমছে। এতে আমরা আতঙ্কে আছি। পানি আরও বাড়লে আমন ধানের বীজতলা নষ্ট হয়ে যাবে।
কালীগঞ্জ উপজেলার চর শৌলমারী এলাকার কৃষক নজরুল ইসলাম বলেন, আমাদের চরটি নদীর পানি কানায় কানাঢ পরিপূর্ণ। আমরা এখনো বাড়িতে অবস্থান করছি, তবে পানি আরেকটু বাড়লে নিরাপদ আশ্রয়ে যেতে হবে। কয়েক দিন ধরে দিনে বৃষ্টি না হলেও প্রত্যেক রাতেই বৃষ্টি হচ্ছে। এ ছাড়া উজান থেকে পাহাড়ি ঢলের পানি হু হু করে আসছে।
লালমনিরহাট পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী শুনিল কুমার রায় বলেন, ভারতের উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলে তিস্তার পানি বৃদ্ধি পাচ্ছে। পরিস্থিতি মোকাবিলায় ব্যারাজের সবগুলো কপাট খুলে রাখা হয়েছে এবং নদীর তীরবর্তী মানুষকে সতর্ক থাকতে বলা হয়েছে। তিস্তার পানি এখন কিছুটা কমছে, তবে বৃষ্টি হলে পানি আবারও দ্রুত বেড়ে যেতে পারে।
কয়েক দিনের বৃষ্টির কারণে নদী অববাহিকার ফসলের বেশ ক্ষতি হয়েছে। এই স্থায়ী দুর্ভোগ থেকে বাঁচতে এবং তিস্তা মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়নের দাবিতে কয়েক দিন ধরে নদীতীরের মানুষ আন্দোলন করে আসছেন। আসন্ন জাতীয় বাজেটে তিস্তা মহাপরিকল্পনা অন্তর্ভুক্ত করার দাবিও জানিয়েছেন তারা।







