
রাজধানীর বিজয় সরণি মেট্রোরেল স্টেশনে হারিয়ে যাওয়া এক শিশুকে তার পরিবারের কাছে হস্তান্তর করেছেন আনসার সদস্যরা।
শনিবার (২০ জুন) দুপুরে বাংলাদেশ আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনীর প্রধান মুখপাত্র ও গণসংযোগ কর্মকর্তা উপপরিচালক মো. আশিকউজ্জামান এ তথ্য জানিয়েছেন।
তিনি জানান, বিজয় সরণি মেট্রোরেল স্টেশনে হারিয়ে যাওয়া শিশুটিকে শুক্রবার (১৯ জুন) বিকেল ৫টার দিকে দিশেহারা অবস্থায় পান কর্তব্যরত আনসার সদস্য মো. সামিউল ইসলাম। পরে তার পরিবারের সদস্যদের খুঁজে বের করে শিশুটিকে হস্তান্তর করা হয়।
মেট্রোরেলের ব্যস্ত যাত্রীস্রোতের মাঝে বাবার কাছ থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে দিশেহারা হয়ে পড়েছিল শিশুটি। চারপাশে অসংখ্য মানুষের ভিড়, অথচ পরিচিত কোনো মুখ নেই। আতঙ্ক, উৎকণ্ঠা আর কান্নায় ভেঙে পড়া সেই শিশুটির পাশে মানবিকতার হাত বাড়িয়ে দেন দায়িত্বরত আনসার সদস্য। তার দায়িত্বশীলতা, আন্তরিকতা ও দ্রুত পদক্ষেপের ফলে হারিয়ে যাওয়া শিশুটি অল্প সময়ের মধ্যেই ফিরে পায় তার বাবার স্নেহময় আশ্রয়।
উপপরিচালক আশিকউজ্জামান বলেন, বিজয় সরণি মেট্রোরেল স্টেশনের প্ল্যাটফর্ম-২ এ দায়িত্ব পালনকালে আনসার সদস্য মো. সামিউল ইসলাম একটি শিশুকে একা, উদ্বিগ্ন ও অস্থিরভাবে ঘোরাফেরা করতে দেখেন। শিশুটির আচরণ দেখে তার সন্দেহ হয় যে, সে হয়তো পরিবার থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে।
তিনি শিশুটির কাছে গিয়ে স্নেহভরে কথা বলতে শুরু করেন। তখন কান্নাজড়িত কণ্ঠে শিশুটি জানায়, তার নাম মো. জিসান আলম এবং বাবার নাম মো. রফিকুল ইসলাম। বাবার সঙ্গে মেট্রোরেলে করে যাওয়ার সময় সে ভুলে অন্য যাত্রীদের সঙ্গে নেমে গিয়ে হারিয়ে যায়।
শিশুটির কথা শুনে আনসার সদস্য সামিউল ইসলাম দ্রুত পরিস্থিতির গুরুত্ব অনুধাবন করেন। তিনি শিশুটিকে নিজের হেফাজতে নিয়ে নিরাপদ স্থানে বসান এবং তাকে সাহস ও সান্ত্বনা দেন। ভীতসন্ত্রস্ত শিশুটি যেন আতঙ্কিত না হয়, সেদিকেও তিনি বিশেষভাবে খেয়াল রাখেন।
পরে তিনি বিষয়টি দ্রুত শিফট ইনচার্জ এপিসি মো. আলতাফ হোসেনকে জানান। তিনি তাৎক্ষণিকভাবে স্টেশন কন্ট্রোলারকে বিষয়টি অবহিত করেন। এরপর স্টেশন কন্ট্রোলারের সমন্বয়ে মেট্রোরেলের বিভিন্ন স্টেশনে ঘোষণা দেন ও যোগাযোগ কার্যক্রম শুরু হয়।
শিশুটির অভিভাবকের সন্ধানে দ্রুত তৎপরতা চালানো হয়। একপর্যায়ে জানা যায়, শিশুটির বাবা মো. রফিকুল ইসলাম আগারগাঁও স্টেশনে ছেলেকে খুঁজে না পেয়ে উদ্বিগ্ন অবস্থায় অপেক্ষা করছিলেন। সন্তানের অবস্থান সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়ার পর তিনি দ্রুত বিজয় সরণি মেট্রোরেল স্টেশনে পৌঁছান।
দীর্ঘ উৎকণ্ঠা ও উদ্বেগের পর বাবাকে সামনে দেখে শিশুটি ছুটে গিয়ে তার বুকে জড়িয়ে ধরে। সন্তানের নিরাপদ প্রত্যাবর্তনে আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন বাবা। উপস্থিত যাত্রীরাও বাবা-ছেলের সেই আবেগঘন পুনর্মিলনের দৃশ্য দেখে আপ্লুত হন। পরে প্রয়োজনীয় যাচাই-বাছাই শেষে স্টেশন কর্মকর্তা ও এমআরটি পুলিশের উপস্থিতিতে শিশু জিসান আলমকে তার বাবার নিকট হস্তান্তর করা হয়।
সন্তানকে ফিরে পেয়ে মো. রফিকুল ইসলাম গভীর কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, দায়িত্বশীল ও মানবিক আচরণের মাধ্যমে আনসার সদস্যরা শুধু একটি শিশুকেই উদ্ধার করেননি, একটি পরিবারের দুশ্চিন্তা ও উৎকণ্ঠারও অবসান ঘটিয়েছেন।