ফরমালিন আসলে ফলের ওপর কাজ করে না: মাহবুব কবির মিলন

বাজারে বিদ্যমান ফরমালিন নিয়ে অহেতুক আতঙ্কিত না হয়ে সাধারণ মানুষের উচিত নিশ্চিন্তে দেশি ফলমূল খাওয়া। কারণ অধিকাংশ ক্ষেত্রে ফল পাকার জন্য ব্যবহৃত উপাদানগুলো ক্ষতিকর নয় বলেছেন সাবেক অতিরিক্ত সচিব মাহবুব কবির মিলন।
সম্প্রতি এশিয়া পোস্টের ‘আলাপন’ অনুষ্ঠানে এসে এই মন্তব্য করেন তিনি।
মাহবুব কবির মিলন বলেন, আমাদের দেশে ফলমূল নিয়ে এক ধরনের অমূলক ভীতি কাজ করে, যা দূর হওয়া প্রয়োজন। ফরমালিন আসলে ফলের ওপর কাজ করে না এবং এটি ফলে দিলেও কোনো কাজ হয় না।
তিনি বলেন, ফল পচবে এটিই স্বাভাবিক। কিন্তু আপেল বা মালটার মতো ফলের গায়ে ওয়াক্স কোটিং বা মোম দেওয়া থাকে, যা ক্ষতিকর নয়। তিনি মনে করেন, ফরমালিন মূলত প্রোটিন বন্ডেজে কাজ করে, কিন্তু সাধারণ মানুষ একে সব ফলের জন্য ভীতির কারণ হিসেবে বিবেচনা করে।
তিনি আরও বলেন, আম বা লিচু পাকানোর জন্য যে ইথোফেন ব্যবহার করা হয়, তা মূলত একটি গ্রোথ হরমোন। ইথোফেন ২৪ ঘণ্টার মধ্যে ভেঙে যায় এবং এর কোনো ক্ষতিকর অবশিষ্টাংশ ফলে থাকে না। তিনি মনে করেন, বাগান থেকে ফল বাজারে আসতে যে সময় লাগে, তার মধ্যেই ইথোফেনের কার্যকারিতা নষ্ট হয়ে যায়।
তার দাবি, পাকার জন্য স্প্রে করা ফলগুলো ঘরে এনে একদিন রেখে ধুয়ে খেলে সেটি পুরোপুরি রাসায়নিকমুক্ত হয়ে যায়।
সাবেক এই অতিরিক্ত সচিব বলেন, তরমুজে সিরিঞ্জ দিয়ে রং পুশ করা বা মিষ্টি দেওয়ার ধারণাটি সম্পূর্ণ ভুল এবং অবৈজ্ঞানিক। তরমুজের ভেতরে এভাবে কোনো কিছু ঢোকানো সম্ভব নয় এবং এটি কেবল লোকমুখে প্রচলিত আতঙ্ক মাত্র। তিনি বলেন, স্প্রে করা টমেটো নিয়ে তারা পরীক্ষা করে দেখেছেন যে সেখানেও ২৪ ঘণ্টা পর কোনো বিষাক্ত উপাদান থাকে না। তিনি মনে করেন, ফলের আমদানির শুল্ক কমিয়ে দিলে মানুষ আরও বেশি পুষ্টিকর ফল খাওয়ার সুযোগ পাবে।
তিনি আরও বলেন, আমের ক্ষেত্রে সরকার নির্ধারিত ক্যালেন্ডার মেনে ফল কিনলে কোনো ঝুঁকির সম্ভাবনা থাকে না। প্রথম দিকের কাঁচা বা অকালপক্ব ফলগুলোতে বেশি লাভের আশায় কিছু রাসায়নিক দেওয়া হতে পারে, যা এড়িয়ে চলা উচিত। তিনি বলেন, আম বা লিচুতে সরাসরি ফরমালিন দেওয়া হয় না, কিন্তু মানুষ অন্য রাসায়নিককে ফরমালিন হিসেবে ভুল করে। তিনি মনে করেন, দুধ বা মাছের চেয়ে ফল এখন পর্যন্ত বাংলাদেশে তুলনামূলক নিরাপদ খাবার হিসেবে বিবেচিত হতে পারে।







