দুই দেশ সফরে প্রধানমন্ত্রী, প্রাধান্য পাচ্ছে যেসব বিষয়

প্রধানমন্ত্রী হিসেবে রাষ্ট্রীয় সফরে মালয়েশিয়ার পথে রওনা হয়েছেন বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান। মালয়েশিয়া প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিমের আমন্ত্রণে সেখানে যাচ্ছেন তিনি।
চলতি বছরের ১২ ফেব্রুয়ারিতে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে সরকার গঠনের পর প্রধানমন্ত্রী হিসেবে তারেক রহমানের এটিই প্রথম বিদেশ সফর।
সরকারপ্রধান হিসেবে তারেক রহমানের প্রথমবার বিদেশ সফর কেবল আনুষ্ঠানিকতা নয়, এর মাধ্যমে বিএনপি সরকারের পররাষ্ট্রনীতিরও একটি বার্তাও বহন করে।
মালয়েশিয়া সফর শেষে চীনের প্রধানমন্ত্রী লি কিয়াংয়ের আমন্ত্রণে চীন সফর করবেন তারেক রহমান। দেশ দুটি সফরে অর্থনৈতিক অংশীদারত্ব শক্তিশালীকরণ, বিদেশি বিনিয়োগ আকর্ষণ, আঞ্চলিক সংযোগ বৃদ্ধি এবং অবকাঠামো, প্রযুক্তি, সংযোগ ও উন্নয়ন খাতকে প্রাধান্য দেওয়া হচ্ছে।
এক সংবাদ সংবাদ সম্মেলন করেন পররাষ্ট্র সচিব আসাদ আলম সিয়াম বলেছেন, মালয়েশিয়ায় প্রধানমন্ত্রীর সফরে শ্রম বাজারকে ‘এক নম্বর এজেন্ডায়’ রাখা হয়েছে। কুয়ালামপুরের এই সফরে মালয়েশিয়ার সঙ্গে সাংস্কৃতিক বিনিময় ও মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি নিয়ে দুটি দলিল সইয়ের সম্ভাবনা রয়েছে।
অগ্রাধিকার পাবে শ্রমবাজার
প্রধানমন্ত্রীর মালয়েশিয়া সফরের কথা তুলে ধরে আসাদ আলম সিয়াম বলেন, সফরের প্রথম দিন ২১ জুন প্রধানমন্ত্রীকে মালয়েশিয়ায় আনুষ্ঠানিক অভ্যর্থনা জানানো হবে। পরদিন ২২ জুন পুত্রাজায়ায় মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে দুই দেশের প্রধানমন্ত্রীর মধ্যে প্রথম একান্ত বৈঠক এবং পরে উভয় দেশের সরকার প্রধানের নেতৃত্বে উচ্চ পর্যায়ের প্রতিনিধিদলের মধ্যে দ্বিপক্ষীয় বৈঠক অনুষ্ঠিত হবে।
প্রধানমন্ত্রীর এই সফরকালে বাণিজ্য-বিনিয়োগ সম্প্রসারণ, জ্বালানি সহযোগিতা, হালাল অর্থনীতি, কর্মী প্রেরণ, সেমিকন্ডাক্টর শিল্প ও কৃষি, শিক্ষা ও জন-যোগাযোগসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে দুই দেশের মধ্যে অধিকতর সহযোগিতা স্থাপনের বিষয়ে আলোচনা হওয়ার তথ্য দেন পররাষ্ট্র সচিব।
তিনি আরও বলেন, বিশেষ করে মালয়েশিয়ার বিভিন্ন খাতে নতুন বাংলাদেশি কর্মী নিয়োগের অনুরোধ এবং বাংলাদেশিদের কল্যাণের বিষয়ে অনুরোধ জানানো হবে।
পররাষ্ট্রসচিব বলেন, মালয়েশিয়া সফরে বাংলাদেশের আসিয়ানের ‘ডায়ালগ পার্টনার এবং রিজিওনাল কমপ্রিহেনসিভ ইকোনমিক পার্টনারশিপ-আরসেপে’ যোগদান করার আবেদন জোরালোভাবে তুলে ধরে মালয়েশিলার সমর্থন চাওয়া হবে।
চীন সফরে অলোচিত তিস্তা প্রকল্প
প্রধানমন্ত্রী প্রথম সফরের জন্য মালয়েশিয়াকে বেছে নিলেও সেখান থেকে তিনি চীনেই যাবেন। সেখানে তার উপস্থিতিতে ১৫ থেকে ১৭টি চুক্তি ও সমঝোতা স্মারক সই হওয়ার কথা রয়েছে।
চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং এবং প্রধানমন্ত্রী লি চিয়াংয়ের সঙ্গে আলোচনায় বাংলাদেশের তিস্তা প্রকল্প, সামরিক সহযোগিতা এবং চীনের বিভিন্ন বৈশ্বিক উদ্যোগে যোগ দেওয়ার বিষয়টি আলোচনায় থাকবে।
এ ছাড়া অবকাঠামো, প্রযুক্তি, সংযোগ এবং উন্নয়ন খাতে সহযোগিতা আরও গভীর করার বিষয়ে বাংলাদেশের অঙ্গীকার তুলে ধরবেন প্রধানমন্ত্রী।
এর আগে রোরবার (২১ জুন) প্রধানমন্ত্রী ও তার সফরসঙ্গীদের বহনকারী বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের একটি ফ্লাইট বিকেলে ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে কুয়ালালামপুরের উদ্দেশে রওনা হয়।
হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে প্রধানমন্ত্রীকে বিদায় জানান স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, জাতীয় সংসদের চিফ হুইপ নুরুল ইসলাম মনি, মন্ত্রিপরিষদ সচিব নাসিমুল গনি, প্রধানমন্ত্রীর প্রেস সচিব সালেহ শিবলী, মালয়েশিয়া ও চীনের রাষ্ট্রদূতসহ ঊধর্তন সরকারি কর্মকর্তারা।
প্রধানমন্ত্রীর সফরসঙ্গী হিসেবে রয়েছেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান, প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী, বিদ্যুৎ ও জ্বালানি প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত, প্রধানমন্ত্রীর পররাষ্ট্র বিষয়ক উপদেষ্টা হুমায়ুন কবির, বৈদেশিক কর্মসংস্থান বিষয়ক উপদেষ্টা মাহদী আমিন, প্রতিরক্ষা বিষয়ক উপদেষ্টা একেএম শামসুল ইসলাম প্রমুখ।







