logo
Advertisement

ইসরায়েলের অত্যাধুনিক প্রতিরক্ষা প্রযুক্তির দিকে ঝুঁকছে ইইউ

পলিটিকো
পলিটিকো
ইসরায়েলের অত্যাধুনিক প্রতিরক্ষা প্রযুক্তির দিকে ঝুঁকছে ইইউ
ইসরায়েল ও ইউরাপীয় ইউনিয়নের পতাকা। ছবি: এশিয়া পোস্ট কোলাজ

অত্যাধুনিক আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা জোরদার ও মহাকাশ প্রতিরক্ষা সক্ষমতা অর্জনে ইসরায়েলের উন্নত প্রযুক্তির দিকে ঝুঁকছে ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ)। এই কৌশলগত সহযোগিতার অংশ হিসেবে চলতি সপ্তাহ ইইউ সদর দপ্তর ব্রাসেলস সফল করেছেন ইসরায়েলের স্পেস এজেন্সির প্রধান শিমরিত মামান।

ব্রাসেলেসে তিনি ইইউ স্টার্টআপ, গবেষণা ও উদ্ভাবন বিষয়ক কমিশনার একাতেরিনা জাহারিভার সঙ্গে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) এবং রোবোটিক্সের মতো গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্রগুলোতে যৌথ অংশীদারিত্ব নিয়ে আলোচনা করেন।

মঙ্গলবার (৮ সেপ্টেম্বর) সংবাদমাধ্যম পলিটিকোর প্রতিবেদন অনুসারে, আগামী বৃহস্পতিবার প্যারিসে অনুষ্ঠিতব্য একটি শীর্ষ সম্মেলনে ইইউ প্রেসিডেন্ট উরসুলা ভন ডার লেয়েন মহাকাশ নিরাপত্তা বিষয়ে তার প্রথম গুরুত্বপূর্ণ নীতি-নির্ধারণী ভাষণ দিতে যাচ্ছেন। এর ঠিক আগমুহূর্তে মামানের এই সফর আন্তর্জাতিক ভূরাজনীতিতে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ।

পলিটিকো-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে শিমরিত মামান সতর্ক করে বলেন, ‘মহাকাশের সামরিকীকরণ ইতোমধ্যেই শুরু হয়ে গেছে। আমরা এর পরিমাণটা এখনও বুঝতে পারছি না। একাই কোনো কাজ করা খুব কঠিন।’

ইরানের সঙ্গে সাম্প্রতিক ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় ইসরায়েলের আগাম সতর্কীকরণ ও প্রতিরক্ষা প্রযুক্তির কার্যকারিতা প্রমাণিত হয়েছে বলে দাবি করেন তিনি। এ ছাড়াও ইউরোপীয় মিত্রদের কাছে ‘দ্বৈত-ব্যবহারযোগ্য’ (সিভিলিয়ান ও সামরিক) প্রযুক্তির ব্যাপক চাহিদা দেখছেন বলেন জানান মামান।

তিনি বলেন, ‘আমরা যে বিষয়গুলো নিয়ে কাজ করছি তার মধ্যে একটি হলো আগাম সতর্কীকরণ ব্যবস্থা। উদাহরণস্বরূপ, ইরানের সঙ্গে আমাদের শেষ দফা ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় আমরা এর চমৎকার প্রয়োগ দেখেছি।’

তিনি আরও বলেন, ‘কীভাবে আমরা ইসরায়েলের সকল বেসামরিক নাগরিকের কাছে সতর্কবার্তা পৌঁছে দিতে পারছি এবং হতাহতের সংখ্যাও তেমন বাড়াচ্ছি না। এটা সেই ব্যবস্থারই একটি অংশ। আমরা এমন একটি ব্যাপক পরিসরের ব্যবস্থা নিয়ে কাজ করছি, যার মাধ্যমে আগে থেকেই সতর্ক করা যাবে এবং সেই ব্যবস্থাটি নাগরিকদের সতর্ক করে দেবে।’

২০২৪ সালে ইইউ-অর্থায়িত একটি সমন্বিত বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা গড়ে তোলার উদ্যোগে সমর্থন জানিয়েছিলেন প্রেসিডেন্ট উরসুলা ভন ডার লেয়েন, পোল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী ডোনাল্ড টাস্ক ও গ্রিসের প্রধানমন্ত্রী কিরিয়াকোস মিতসোটাকিস। তবে গাজা যুদ্ধের রাজনৈতিক সংবেদনশীলতার কারণে ইসরায়েলি প্রযুক্তি ব্যবহারের সেই প্রস্তাব বাস্তবায়নে কিছুটা ধীরগতি এসেছিল।

ওই আলোচনার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট তিনজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা পলিটিকো-কে জানিয়েছেন, শেষ পর্যন্ত পরিকল্পনাটি আর এগোয়নি। কারণ ইউরোপীয় কমিশন ও কয়েকটি রাজধানী মনে করেছে, এটি বাস্তবায়ন করতে ইসরায়েলি বিমান প্রতিরক্ষা প্রযুক্তির ওপর নির্ভর করতে হবে। গাজা সংঘাতের এক বছর পর এমন নির্ভরতা তাদের কাছে অত্যন্ত সংবেদনশীল ও রাজনৈতিকভাবে স্পর্শকাতর বলে বিবেচিত হয়েছে।

তবে ভূরাজনৈতিক সমীকরণে নতুন করে মোড় নিয়ে বর্তমানে ইউরোপে কার্যক্রম জোরদার করেছে ইসরায়েলের শীর্ষ প্রতিরক্ষা প্রতিষ্ঠান রাফায়েল অ্যাডভান্সড ডিফেন্স সিস্টেমস। প্রতিষ্ঠানটি নিশ্চিত করেছে যে, অত্যাধুনিক আকাশ প্রতিরক্ষা ‘আয়রন ডোম’ ব্যবস্থা তৈরির উদ্দেশ্যে তারা জার্মানির একটি পুরোনো ভক্সওয়াগেন কারখানায় কারখানা স্থাপন করতে যাচ্ছে।

এছাড়া ড্রোন, যুদ্ধবিমান ও রকেট ভূপাতিত করার উদ্দেশ্যে সম্প্রতি ইসরায়েলের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে ৩ বিলিয়ন ইউরোর এক চুক্তি স্বাক্ষর করেছে গ্রিস। স্যাটেলাইট ইমেজিং, এআই মডেলিং ও বহুস্তরীয় আকাশ-প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার পাশাপাশি জলবায়ুজনিত দুর্যোগ মোকাবিলায়ও ইইউ-ইসরায়েল যৌথ প্রযুক্তি কাজে আসবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

যৌথ উন্নয়নের মূল ক্ষেত্র হিসেবে স্যাটেলাইট চিত্রগ্রহণ ও এআই মডেলিংয়ের কথা তুলে ধরে মামান বলেন, ‘এর মাধ্যমে প্রতিরক্ষার বিভিন্ন স্তরকে একীভূত করা সম্ভব হচ্ছে। আমি প্রতিরক্ষা বলতে শুধু ইরানের ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্রের হুমকি মোকাবিলাকে বুঝি না... অগ্নিকাণ্ড, আকস্মিক বন্যা কিংবা দীর্ঘস্থায়ী খরার মতো দুর্যোগ মোকাবিলাও এর আওতায় পড়ে। এসব ক্ষেত্রে তাদের প্রযুক্তি ব্যবহারের বাস্তব অভিজ্ঞতা রয়েছে এবং তা থেকে ইতিবাচক ফলাফলও পেয়েছি।’