
যুক্তরাজ্যের পর পশ্চিম তীরের ইহুদি বসতিগুলোর উৎপাদিত পণ্যের ওপর বাণিজ্য নিষেধাজ্ঞা আরোপের ঘোষণা দিয়েছে আরও ১১টি দেশ। দেশগুলো হলো—ফ্রান্স, কানাডা, নরওয়ে, ডেনমার্ক, পোল্যান্ড, পর্তুগাল, স্পেন, সুইডেন, আইসল্যান্ড, আয়ারল্যান্ড ও ফিনল্যান্ড।
ফিলিস্তিন-ইসরায়েল সংঘাতের অবসানে দ্বি-রাষ্ট্র সমাধানের প্রতি সমর্থন এবং পশ্চিম তীরের ফিলিস্তিনি গ্রামগুলোতে ইসরায়েলি বসতি স্থাপনকারীদের ক্রমবর্ধমান হামলা ও সহিংসতার প্রতিবাদে এ নিষেধাজ্ঞা আরোপের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
এর আগে পশ্চিম তীরের ইহুদি বসতি স্থাপনকারীদের লক্ষ্য করে বাণিজ্য নিষেধাজ্ঞা ঘোষণা করেছিল যুক্তরাজ্য। মঙ্গলবার দেশটির পার্লামেন্টে এক ভাষণে অর্থমন্ত্রী এড মিলিব্যান্ড নিষেধাজ্ঞা কার্যকর হওয়ার বিষয়টি জানান। একই দিন আরও ১১ দেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় পশ্চিম তীরের ইহুদি বসতিগুলোর বিরুদ্ধে একই ধরনের পদক্ষেপ নেওয়ার ঘোষণা দেয়।
এক যৌথ বিবৃতিতে ১২ দেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রীরা বলেন, দ্বি-রাষ্ট্র সমাধান আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত একটি লক্ষ্য। কিন্তু ইসরায়েল সরকার নিয়মিতভাবে এ সমাধানকে পাশ কাটানোর চেষ্টা করছে। একই সঙ্গে পশ্চিম তীরে ইহুদি বসতি নির্মাণের হার বৃদ্ধি এবং বসতি স্থাপনকারীদের সহিংসতার কারণে অঞ্চলটির আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির দ্রুত অবনতি ঘটছে।
সম্প্রতি কয়েক দশক ধরে স্থগিত থাকা ‘ই-ওয়ান’ বসতি নির্মাণ পরিকল্পনা পুনরুজ্জীবিত করেছে ইসরায়েল। পরিকল্পনাটি বাস্তবায়িত হলে পশ্চিম তীরের উত্তর ও দক্ষিণ অংশের মধ্যে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। পাশাপাশি সেখানে প্রায় ১ হাজার ২০০টি নতুন আবাসন ইউনিট নির্মাণের সুযোগ তৈরি হবে।
ইসরায়েলের ই-ওয়ান প্রকল্প পুনরুজ্জীবিত করার চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের পরই পশ্চিম তীরের ইহুদি বসতিগুলোর ওপর বাণিজ্য নিষেধাজ্ঞার ঘোষণা দেয় যুক্তরাজ্য।
মঙ্গলবার পার্লামেন্টে দেওয়া বক্তব্যে যুক্তরাজ্যের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এড মিলিব্যান্ড বলেন, পশ্চিম তীরে ইসরায়েলি বসতি স্থাপনকারীরা জাতিগত নিধনে নেমেছে এবং ইসরায়েল সরকার বিষয়টি দেখেও নীরব রয়েছে। এমন পরিস্থিতিতে যুক্তরাজ্যের জনগণ পশ্চিম তীরের ইহুদি বসতি স্থাপনকারীদের কাছ থেকে পণ্য কেনা বা তাদের বাণিজ্যিক সুবিধা দেওয়ার বিষয়টি মেনে নেবে না বলে মন্তব্য করেন তিনি।
এদিকে, ফ্রান্স ও স্পেনসহ কয়েকটি দেশ ইতোমধ্যে নিষেধাজ্ঞা কার্যকর করেছে বলে জানিয়েছে এএফপি। ফ্রান্স নিজস্বভাবে নিষেধাজ্ঞা আরোপের পাশাপাশি ইউরোপীয় ইউনিয়নের অন্যান্য দেশকেও একই ধরনের পদক্ষেপ নেওয়ার জন্য কূটনৈতিক তৎপরতা চালিয়ে যাচ্ছে।


