logo
Advertisement

ইরান যুদ্ধের প্রভাবে শ্রীলঙ্কায় আবারও অর্থনৈতিক মন্দার আশঙ্কা

এশিয়া পোস্ট নিউজ
এশিয়া পোস্ট নিউজ
ইরান যুদ্ধের প্রভাবে শ্রীলঙ্কায় আবারও অর্থনৈতিক মন্দার আশঙ্কা

ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে ইরানের চলমান যুদ্ধের প্রভাবে বিশ্ববাজারে তেলের দাম ব্যারেলপ্রতি ১০০ ডলার ছাড়িয়েছে। যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকেই টালমাটাল হয়ে পড়েছে দক্ষিণ এশিয়ার দ্বীপরাষ্ট্র শ্রীলঙ্কার অর্থনীতি। হরমুজ প্রণালি দিয়ে জাহাজ চলাচল সীমিত হয়ে পড়ায় দেশটিতে দেখা দিয়েছে তীব্র জ্বালানি সংকট। পরিস্থিতি মোকাবিলায় চার বছর আগের সেই ভয়াবহ অর্থনৈতিক সংকটের মতো আবারও ‘কিউআর কোড’ভিত্তিক রেশনিং ব্যবস্থা চালু করেছে প্রেসিডেন্ট অনুঢ়া দিশানায়েকের সরকার।

আলজাজিরার খবর জানাচ্ছে, নিজস্ব চাহিদার ৬০ শতাংশ জ্বালানি আমদানি করে শ্রীলঙ্কা। দেশটির কাছে মাত্র এক মাসের চাহিদা মেটানোর মতো তেলের মজুত রয়েছে। দীর্ঘদিন এই জ্বালানি সংকট অব্যাহত থাকলে দেশটি ২০২২ সালের মতো অর্থনৈতিক মন্দায় পতিত হতে পারে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। আসন্ন মন্দার আশঙ্কায় কঠোর রেশনিং ব্যবস্থা কার্যকর করেছে দেশটির সরকার। এ ব্যবস্থায় এখন মোটরসাইকেলের জন্য সপ্তাহে মাত্র ৮ লিটার এবং বাসের জন্য ১০০ লিটার ডিজেল বরাদ্দ করা হয়েছে।

যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকে দেশটিতে জ্বালানির দাম প্রায় ৩৩ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে। এ ছাড়া জ্বালানি সাশ্রয়ে প্রতি বুধবার সরকারি অফিস ও স্কুল বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছে লঙ্কান সরকার।

দেশটির জ্বালানি মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, বিশ্ববাজারে তেলের দাম হু হু করে বাড়লেও সাধারণ মানুষের কথা চিন্তা করে সরকার পুরোপুরি দাম না বাড়িয়ে এখনও বিশাল অঙ্কের ভর্তুকি দিয়ে যাচ্ছে।

২০২২ সালে তৎকালীন প্রেসিডেন্ট গোতাবায়া রাজাপাকসের ভুল নীতির কারণে দেশ দেউলিয়া হয়ে গিয়েছিল। তবে বর্তমান সংকটের প্রেক্ষাপট ভিন্ন। ক্যান্ডি শহরের থ্রি-হুইলার চালক কীর্তি রত্ন বলেন, ‘২০২২ সালের সংকটে জ্বালানিবোঝাই জাহাজ আমাদের সমুদ্রসীমায় দাঁড়িয়ে ছিল, কিন্তু সরকারের তা কেনার টাকা ছিল না। আর এখন সরকারের কাছে বিদেশি মুদ্রা আছে, কিন্তু যুদ্ধের কারণে জাহাজই আসছে না।’

দেশটির জ্বালানি সাশ্রয়ে বর্তমানে ‘বুধবার ছুটি’ ঘোষণা করে সরকারি অফিস ও স্কুল বন্ধ রাখা হচ্ছে। সরকারি সূত্র মতে, আন্তর্জাতিক বাজারে দাম বাড়লেও অভ্যন্তরীণ বাজারে ভর্তুকি দেওয়ার কারণে প্রতি মাসে সরকারের প্রায় ৬৩ মিলিয়ন ডলার লোকসান হচ্ছে।

সংকট উত্তরণে শ্রীলঙ্কা এখন রাশিয়ার শরণাপন্ন হয়েছে। রুশ জ্বালানি প্রতিমন্ত্রী রোমান মার্শাভিন সম্প্রতি শ্রীলঙ্কা সফর করেছেন। এ ছাড়া ভারত ও সংযুক্ত আরব আমিরাতের সঙ্গে মিলে পুরোনো জ্বালানি সংরক্ষণাগার সংস্কারের কাজ চলছে দেশটিতে।

ইরান যুদ্ধের প্রভাব কেবল জ্বালানিতেই সীমাবদ্ধ নয়, এটি দক্ষিণ এশিয়ার খাদ্য নিরাপত্তার জন্যও হুমকি হয়ে দাঁড়িয়েছে। সারের প্রধান উপাদান ইউরিয়া ও সালফারের একটি বড় অংশ এই অঞ্চল দিয়ে আসায় কৃষি খাতেও সংকটের আশঙ্কা দেখা দিচ্ছে। শ্রীলঙ্কার অর্থনৈতিক বিশেষজ্ঞরা বলছেন, জ্বালানির এই উচ্চমূল্য এবং সরবরাহে ঘাটতি থাকলে দেশটিতে খাদ্যদ্রব্যের দাম প্রায় ১৫ শতাংশ বাড়তে পারে।

পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করে রাজনৈতিক অর্থনীতিবিদ শিরান ইলানপেরুমা বলেন, হরমুজ প্রণালি দীর্ঘ সময় বন্ধ থাকলে কেবল জ্বালানি নয়, সার সংকটের কারণে শ্রীলঙ্কার খাদ্য নিরাপত্তা চরম ঝুঁকির মুখে পড়বে।