ইনফান্তিনোর ওপর থেকে সমর্থন তুলে নিল ফ্রান্স

ফিফা সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনোর পুনর্নির্বাচনের পথে বড় ধাক্কা দিল ফ্রান্স। দীর্ঘদিনের সমর্থন প্রত্যাহার করে ২০২৭ সালের নির্বাচনে তাকে আর সমর্থন না করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে ফ্রেঞ্চ ফুটবল ফেডারেশন (এফএফএফ)।
বৃহস্পতিবার এফএফএফের নির্বাহী কমিটির বৈঠকে সর্বসম্মতভাবে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। আগামী ১৮ মার্চ মরক্কোর রাবাতে অনুষ্ঠিত হবে ফিফা সভাপতি নির্বাচন।
এক দশকেরও বেশি সময় ধরে ইনফান্তিনোর অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ইউরোপীয় সমর্থক ছিল ফ্রান্স। ২০১৬ সালে তাকে ফিফা সভাপতি নির্বাচিত করতেও ভূমিকা রেখেছিল দেশটির ফুটবল ফেডারেশন। এমনকি গত জুনেও পুনর্নির্বাচনের জন্য ইনফান্তিনোকে সমর্থন জানিয়ে একটি চিঠিতে সই করেছিলেন এফএফএফ সভাপতি ফিলিপ দিয়ালো।
তবে মাত্র কয়েক মাসের ব্যবধানেই সেই অবস্থান পুরোপুরি বদলে গেছে।
এর পেছনে সবচেয়ে বড় কারণ ফিফার প্রস্তাবিত ‘ফিফা ফরোয়ার্ড এন্টারপ্রাইজ’ প্রকল্প। পরিকল্পনাটি বাস্তবায়িত হলে ফিফার বিভিন্ন প্রতিযোগিতার বাণিজ্যিক স্বত্বের একটি অংশ বেসরকারি বিনিয়োগকারীদের হাতে তুলে দেওয়া হতো। পরিকল্পনা নিয়ে সদস্য দেশগুলোর সঙ্গে যথেষ্ট আলোচনা না হওয়ায় ইউরোপসহ বিভিন্ন অঞ্চলে তীব্র বিরোধিতা তৈরি হয়।
শেষ পর্যন্ত ১ আগস্ট প্রকল্পটি বাতিল করতে বাধ্য হয় ফিফা। কিন্তু ততদিনে ইনফান্তিনোর নেতৃত্ব ও ফিফার পরিচালনব্যবস্থা নিয়ে আস্থার সংকট তৈরি হয়ে গেছে।
দিয়ালো লি মোন্দেকে বলেছেন, ইনফান্তিনো এখন ফুটবল বিশ্বে ‘বিভেদের কারণ’ হয়ে উঠেছেন এবং তার কর্মকাণ্ড ফুটবলের ভাবমূর্তিরও গুরুতর ক্ষতি করেছে।
ফরাসি ফুটবলপ্রধানের অভিযোগ, এত বড় একটি বাণিজ্যিক পরিকল্পনা নিয়ে সদস্য ফেডারেশনগুলোর সঙ্গে যথেষ্ট পরামর্শ করা হয়নি। ফিফার আর্থিক অবস্থা ভালো থাকার পরও কেন এমন পরিকল্পনা প্রয়োজন হয়েছিল, তা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন তিনি।
ফ্রান্স অবশ্য একা নয়। সাম্প্রতিক সময়ে ইংল্যান্ড ও ইতালিসহ আরও কয়েকটি ইউরোপীয় ফেডারেশন ইনফান্তিনোর প্রতি সমর্থন প্রত্যাহার করেছে। উয়েফার পাশাপাশি এশিয়ান ফুটবল কনফেডারেশন ও কনকাকাফও তাঁর নেতৃত্ব নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে।
তারপরও নির্বাচনের হিসাবে ইনফান্তিনো এখনো সুবিধাজনক অবস্থানে। আফ্রিকা, দক্ষিণ আমেরিকা ও ওশেনিয়ার অনেক দেশের সমর্থন তাঁর সঙ্গে রয়েছে। এখন পর্যন্ত শক্তিশালী কোনো প্রতিদ্বন্দ্বীও সামনে আসেনি। প্রার্থী হওয়ার শেষ সময় ১৮ নভেম্বর।
ইনফান্তিনো ইতোমধ্যে নিশ্চিত করেছেন, তিনি আরও এক মেয়াদের জন্য ফিফা সভাপতি পদে নির্বাচন করবেন। ২০১৬ সাল থেকে বিশ্ব ফুটবলের নিয়ন্ত্রক সংস্থাটির দায়িত্বে আছেন তিনি।
তবে নির্বাচনের ছয় মাসেরও কম সময় আগে ফ্রান্সের মতো প্রভাবশালী একটি ফুটবল দেশের সমর্থন হারানো ইনফান্তিনোর জন্য রাজনৈতিকভাবে বড় ধাক্কাই।


