ভিনিসিয়ুস-প্রেস্টিয়ান্নি বিতর্কে পর্তুগালে রাষ্ট্রীয় তদন্ত শুরু

চ্যাম্পিয়ন্স লিগে বেনফিকা-রিয়াল মাদ্রিদ ম্যাচ ঘিরে ভিনিসিয়ুস জুনিয়রকে বর্ণবাদী মন্তব্যের অভিযোগ এখন শুধু ফুটবল মাঠে সীমাবদ্ধ নেই; বিষয়টি গড়িয়েছে রাষ্ট্রীয় পর্যায়ে। আর্জেন্টাইন মিডফিল্ডার জিয়ানলুকা প্রেস্টিয়ান্নির বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে তদন্ত শুরু করেছে পর্তুগালের একটি সরকারি সংস্থা।
পর্তুগালের ‘অথরিটি ফর দ্য প্রিভেনশন অ্যান্ড কমব্যাট অব ভায়োলেন্স ইন স্পোর্ট’ (APCVD) এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, দা লুজ স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত ম্যাচে রিয়াল ফরোয়ার্ড ভিনিসিয়ুসের প্রতি কথিত বর্ণবাদী মন্তব্যের অভিযোগের বিষয়ে প্রশাসনিক তদন্ত প্রক্রিয়া শুরু করা হয়েছে। অভিযোগের সত্যতা যাচাই এবং প্রয়োজনীয় তথ্য সংগ্রহই এই তদন্তের উদ্দেশ্য।
ম্যাচ চলাকালে গোল উদ্যাপনের সময় প্রেস্টিয়ান্নি ভিনিসিয়ুসকে ‘বানর’ বলে সম্বোধন করেছেন—এমন অভিযোগ তোলেন ব্রাজিলিয়ান তারকা। ঘটনাটি ভিডিওতে স্পষ্টভাবে ধরা না পড়লেও অভিযোগ ওঠে, প্রেস্টিয়ান্নি নিজের জার্সি দিয়ে মুখ ঢেকে মন্তব্য করেন। পরে বিষয়টি নিয়ে মাঠে উত্তেজনা তৈরি হয় এবং উয়েফার বর্ণবাদবিরোধী প্রোটোকল কার্যকর করা হয়।
বেনফিকা ইতোমধ্যে তাদের খেলোয়াড়ের পাশে দাঁড়িয়েছে এবং অভিযোগ অস্বীকার করেছে। তবে পর্তুগিজ কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, ঘটনাটি নিরপেক্ষভাবে তদন্ত করা হবে। অভিযোগ প্রমাণিত হলে শুধু ক্রীড়া-সংক্রান্ত নয়, আইনি জটিলতাও তৈরি হতে পারে। ফৌজদারি আইন প্রযোজ্য হলে বিষয়টি আদালত পর্যন্ত গড়াতে পারে বলেও ধারণা করা হচ্ছে। আর তুলনামূলক কম মাত্রায় দোষ প্রমাণিত হলে বড় অঙ্কের জরিমানাও হতে পারে।
এদিকে ইউরোপীয় ফুটবল সংস্থা উয়েফাও পৃথক তদন্ত শুরু করেছে। তাদের শৃঙ্খলা বিধি অনুযায়ী, বর্ণবাদ বা বৈষম্যমূলক আচরণ প্রমাণিত হলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিকে কমপক্ষে ১০ ম্যাচের নিষেধাজ্ঞা কিংবা নির্দিষ্ট সময়ের জন্য স্থগিতাদেশ দেওয়া হতে পারে। প্রয়োজনে আরও কঠোর শাস্তির বিধানও রয়েছে।
ফুটবল অঙ্গনে ইতোমধ্যেই তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। রিয়াল মাদ্রিদ শিবির ক্ষুব্ধ, অন্যদিকে বেনফিকা খেলোয়াড়কে সমর্থন জানাচ্ছে। তদন্তের ফলাফলই এখন নির্ধারণ করবে—ঘটনাটি শুধুই উত্তপ্ত ম্যাচের অংশ ছিল, নাকি তা পরিণত হবে বড় ধরনের শাস্তিমূলক দৃষ্টান্তে।
সূত্র : টিওয়াইসি স্পোর্টস

