logo
Advertisement

গণভোটের রায় উপেক্ষা করলে পরিণতি ভোগ করতে হবে: জামায়াত আমির

এশিয়া পোস্ট নিউজ
এশিয়া পোস্ট নিউজরাজশাহী
গণভোটের রায় উপেক্ষা করলে পরিণতি ভোগ করতে হবে: জামায়াত আমির
রাজশাহীর ঐতিহাসিক মাদ্রাসা ময়দানে জামায়াত আমির ডা. শফিকুর রহমান বক্তব্য রাখেন। ছবি: এশিয়া পোস্ট

জনগণের ভোটে এই সরকার ক্ষমতায় এসেছে, জনগণের প্রত্যাশা ও গণভোটের রায়কে উপেক্ষা করলে তার রাজনৈতিক পরিণতি ভোগ করতে হবে বলে মন্তব্য করেছেন সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা ও বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান।

শনিবার (১৬ মে) বিকেলে রাজশাহীর ঐতিহাসিক মাদ্রাসা ময়দানে জামায়াত নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় জোটের বিভাগীয় সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

দ্রুত জনগণের মতামতের প্রতিফলন ঘটানোর আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, অন্যথায় রাজপথেই এর জবাব দেওয়া হবে। নতুন সরকার যেসব প্রতিশ্রুতি দিয়ে ক্ষমতায় এসেছে, তার বাস্তবায়নে দৃশ্যমান কোনো অগ্রগতি নেই। বিপরীতে সরকার পুরোনো ফ্যাসিবাদের পথে হাঁটছে।

ডা. শফিক বলেন, বর্তমান সংসদের বয়স মাত্র আড়াই মাস। শুরু থেকেই সরকারের কিছু সিদ্ধান্ত নিয়ে প্রশ্ন উঠলেও বিরোধী দল দায়িত্বশীল আচরণ করছে এবং সরকারকে সময় দিচ্ছে। তবে এই ধৈর্যকে দুর্বলতা হিসেবে না দেখার আহ্বান জানান তিনি।

বিভিন্ন দপ্তর ও প্রতিষ্ঠানে প্রশাসক নিয়োগের সমালোচনা করে জামায়াত আমির বলেন, নির্বাচিত জনপ্রতিনিধির পরিবর্তে দলীয় বিবেচনায় লোক বসানো হচ্ছে, যা গণতান্ত্রিক চর্চার সঙ্গে সাংঘর্ষিক।

তিনি অভিযোগ করেন, বিএনপি অনির্বাচিত প্রতিনিধির অবসানের প্রতিশ্রুতি দিলেও বাস্তবে বহু স্থানে দলীয় প্রশাসক নিয়োগ দেওয়া হয়েছে।

পদ্মা ও তিস্তার পানিবণ্টন প্রসঙ্গে তিনি বলেন, সরকার পদ্মা ব্যারাজ প্রকল্প হাতে নিতে পারে, তবে তা যেন তিস্তা মহাপরিকল্পনার স্বার্থ ক্ষুণ্ন না করে। তিস্তা অববাহিকার বিপুল জনগোষ্ঠীর জীবন-জীবিকা, কৃষি ও পরিবেশ রক্ষায় দ্রুত কার্যকর উদ্যোগ প্রয়োজন।

ভারত প্রসঙ্গে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, বাংলাদেশকে কোনো ধরনের চাপ বা হুমকি দিয়ে লাভ হবে না। একই সঙ্গে ভারতে মুসলিমদের ওপর নির্যাতনের অভিযোগ তুলে তিনি সেখানে মানবিক পরিস্থিতি নিশ্চিত করতে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়, বিশেষ করে জাতিসংঘ-এর ভূমিকা কামনা করেন।

এর আগে, দুপুর থেকেই রাজশাহীসহ উত্তরাঞ্চলের বিভিন্ন জেলা থেকে খণ্ড খণ্ড মিছিল নিয়ে নেতাকর্মীরা সমাবেশস্থলে আসতে শুরু করেন। ব্যানার, ফেস্টুন ও স্লোগানে মুখর হয়ে ওঠে মাদ্রাসা ময়দান ও আশপাশের এলাকা।

সমাবেশে গণভোটের রায় বাস্তবায়ন, জনদুর্ভোগ লাঘব এবং পদ্মা নদীর পানির ন্যায্য হিস্যার দাবি তুলে ধরা হয়। এতে ১১ দলীয় জোটের কেন্দ্রীয় ও আঞ্চলিক নেতারা বক্তব্য দেন।