logo
Advertisement

অফিস থেকে খরচের অতিরিক্ত বিল আদায় করা কি জায়েজ

এশিয়া পোস্ট ডেস্ক
এশিয়া পোস্ট ডেস্ক
অফিস থেকে খরচের অতিরিক্ত বিল আদায় করা কি জায়েজ
সোনালি গম্বুজ। ছবি: ইসলামিক রিলিফ অস্ট্রেলিয়া

অফিসের কাজে বেরিয়ে ভাড়া বা খাবার কিংবা অন্য যেকোনো খাতে খরচ হওয়ার পর অফিসকে ভাউচার দিলে অফিস খরচ বহন করে। এ ক্ষেত্রে খরচের অতিরিক্ত বিল আদায় করা যাবে কি না, এ নিয়ে কেউ কেউ জানতে চান।

ইসলামি বিধান মতে, খরচের অতিরিক্ত টাকা অফিস থেকে গ্রহণ করা জায়েজ হবে না। খাবার, ভাড়া বা অন্য যেকোনো ক্ষেত্রে খরচ যত টাকা হবে, শুধু তত টাকাই গ্রহণ করা জায়েজ হবে। এর চেয়ে বেশি নেওয়া জায়েজ হবে না।

ইসলামে বিশ্বস্ততা ও আমানতদারিতাকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। আমানতের খেয়ানত করা জায়েজ নেই। আনাস (রা.) বলেন, ‘রাসুলুল্লাহ (সা.) যখনই কোনো খুতবা দিতেন, তিনি বলতেন, যার মাঝে আমানতদারিতা নেই, তার ইমানও নেই। যার প্রতিশ্রুতি ঠিক নেই, তার ধর্মও ঠিক নেই।’ (মুসনাদে আহমাদ, হাদিস: ১২৩২৪)

পবিত্র কোরআনে আমানত ও ওয়াদা রক্ষায় যত্নবানদের সফল বলা হয়েছে। আল্লাহ বলেন, ‘মুমিনরা সফল হয়েছে, যারা তাদের আমানত ও ওয়াদা রক্ষায় যত্নবান।’ (সুরা মুমিনুন, আয়াত: ১-৪)

১০০ টাকা খরচ করে ২০০ টাকার বিল করাটা অফিসের সঙ্গে ধোঁকা ও প্রতারণা। ইসলামে ধোঁকা ও প্রতারণা সম্পূর্ণ হারাম। ইসলামে ধোঁকা ও প্রতারণা জঘন্য একটি কাজ। কোনো মুসলমান ধোঁকা দিতে পারে না। ধোঁকা মুসলমানের কাজ নয়, ধোঁকা মুনাফেকের স্বভাব। আল্লাহতায়ালা পবিত্র কোরআনে ধোঁকা ও প্রতারণার জন্য কঠিন শাস্তির কথা বলেছেন। আল্লাহ তাআলা বলেন, ‘তারা যদি তোমাকে ধোঁকা দিতে চায়, তবে আল্লাহই তোমার জন্য যথেষ্ট। তিনিই নিজ সাহায্যে মুমিনদের দ্বারা তোমাকে শক্তিশালী করেছেন।’ (সুরা আনফাল, হাদিস: ৬২)

ধোঁকাদানকারী রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর উম্মত নয় বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন তিনি। আবু হুরায়রা (রা.) বলেন, ‘একদিন রাসুল (সা.) বাজারে গিয়ে একজন খাদ্য বিক্রেতার পাশ দিয়ে অতিক্রম করছিলেন, তিনি খাদ্যের ভেতরে হাত প্রবেশ করে দেখলেন খাদ্যগুলো ভিজা বা নিম্নমান। এ অবস্থা দেখে রাসুল (সা.) বললেন, হে খাবারের পণ্যের মালিক এটা কী? লোকটি বলল, হে আল্লাহর রাসুল, এতে বৃষ্টি পড়েছিল। রাসুলুল্লাহ (সা.) বললেন, তুমি সেটাকে খাবারের ওপরে রাখলে না কেন; যাতে লোকেরা দেখতে পেত? যে ধোঁকা দেয় সে আমার উম্মত নয়।’ (সহিহ মুসলিম, হাদিস: ১০২)