কাবাডি খেলায় হার মেনে নিতে না পেরে শিক্ষার্থীকে ছুরিকাঘাত

কুষ্টিয়ায় কাবাডি খেলায় হেরে যাওয়াকে কেন্দ্র করে প্রতিপক্ষ দলের এক শিক্ষার্থীর ছুরিকাঘাতে রক্তিম (১৬) নামে এক স্কুলছাত্র আহত হয়েছে। গুরুতর অবস্থায় তাকে কুষ্টিয়া ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। বর্তমানে সে শঙ্কামুক্ত।
বৃহস্পতিবার (৩ সেপ্টেম্বর) দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে কুষ্টিয়া শহরের শহীদ আবরার ফাহাদ স্টেডিয়ামে ৫৩ তম জাতীয় স্কুল, মাদ্রাসা ও কারিগরি শিক্ষা ক্রীড়া সমিতির গ্রীষ্মকালীন ক্রীড়া প্রতিযোগিতায় এ ঘটনা ঘটে।
আহত রক্তিম কুষ্টিয়া সদর উপজেলার দহকুলা এলাকার মুন্সি সালামের ছেলে এবং দহকুলা মোহাম্মদশাহী উচ্চ বিদ্যালয়ের ১০ম শ্রেণির শিক্ষার্থী।
জানা যায়, স্টেডিয়ামে দহকুলা মোহাম্মদশাহী উচ্চ বিদ্যালয় ও জেলা কালেক্টরেট স্কুলের মধ্যে কাবাডি খেলা চলছিল। খেলার একপর্যায়ে জেলা কালেক্টরেট স্কুল পরাজিত হয়। এতে ক্ষুব্ধ হয়ে ওই স্কুলের এক শিক্ষার্থী রক্তিমের পিঠে ছুরি দিয়ে আঘাত করে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। এতে রক্তিম ও মাছুম আহত হয়।
পরে শিক্ষক ও সহপাঠীরা রক্তিমকে উদ্ধার করে দ্রুত কুষ্টিয়া ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে ভর্তি করেন।
এমন ক্রীড়া প্রতিযোগিতার মাঠে ছুরিকাঘাতের ঘটনায় শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের মধ্যে উদ্বেগ সৃষ্টি হয়েছে। ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন ভুক্তভোগীর পরিবার।
প্রত্যক্ষদর্শী দহকুলা মোহাম্মদশাহী উচ্চ বিদ্যালয়ের শিক্ষক খন্দকার নজরুল ইসলাম বলেন, খেলার শেষ পর্যায়ে দলটি যখন হেরে যাচ্ছিল, তখন তারা উত্তেজিত হয়ে পড়ে। ৪৪-২৮ পয়েন্টে আমাদের বিজয়ের পর তারা অতর্কিত হামলা চালায়।
হাসপাতালটির আবাসিক মেডিকেল অফিসার (আরএমও) ডা. ইকবাল হোসেন জানান, ছুরিকাঘাতে আহত এক স্কুল শিক্ষার্থীকে হাসপাতালে আনা হয়েছে। তাকে প্রয়োজনীয় চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে এবং বর্তমানে সে আশঙ্কামুক্ত।
এ ঘটনায় কুষ্টিয়া মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জাকির হোসেন বলেন, খেলাকে কেন্দ্র করে মারামারির ঘটনা ঘটেছে। আমি ভিকটিমের সঙ্গে কথা বলেছি। ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের আটকে অভিযান চলছে।
ঘটনার খবর পেয়ে কুষ্টিয়া সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) হারুন অর রশিদ হাসপাতালে গিয়ে আহত শিক্ষার্থীর খোঁজখবর নেন। তিনি এশিয়া পোস্টকে বলেন, ঘটনাটি সুষ্ঠুভাবে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।


