logo
Advertisement

সংবিধানের আমূল সংস্কার ছাড়া জনগণের প্রত্যাশা পূরণ হবে না: গোলাম পরওয়ার

এশিয়া পোস্ট নিউজ
এশিয়া পোস্ট নিউজযশোর
সংবিধানের আমূল সংস্কার ছাড়া জনগণের প্রত্যাশা পূরণ হবে না: গোলাম পরওয়ার
ছবি: এশিয়া পোস্ট

সংবিধানের সাধারণ কোনো সংশোধন নয়, বরং আমূল সংস্কারের দাবি জানিয়েছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল ও সাবেক সংসদ সদস্য মিয়া গোলাম পরওয়ার। তিনি বলেছেন, জনগণের প্রত্যাশা অনুযায়ী রাষ্ট্রকাঠামোর মৌলিক পরিবর্তন আনতে হলে সংবিধানের ব্যাপক সংস্কার জরুরি। সরকার যদি সংখ্যাগরিষ্ঠতার জোরে একতরফা সিদ্ধান্ত নেয় এবং গণভোটে জনগণের দেওয়া রায় উপেক্ষা করে, তবে জনগণ তা মেনে নেবে না।

শুক্রবার (৩১ জুলাই) যশোর শহরের বিডি হলে জেলা ১১ দলীয় ঐক্যের উদ্যোগে আয়োজিত ‘২০২৪-এর গণঅভ্যুত্থান: প্রত্যাশা ও প্রাপ্তি’ শীর্ষক আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেন, সংবিধানে ছোটখাটো সংশোধন করে কাঙ্ক্ষিত পরিবর্তন সম্ভব নয়; জনগণের প্রত্যাশা পূরণে প্রয়োজন আমূল সংস্কার। ধারণাগতভাবে আমরা কোনো সাধারণ সংশোধনের পক্ষে নই, আমরা সংবিধানের মৌলিক সংস্কার চাই। সরকার নির্ধারিত সময়ের মধ্যে উদ্যোগ না নিয়ে সংবিধান ও আইন লঙ্ঘন করেছে। সংসদে বসে সব রাজনৈতিক পক্ষকে নিয়ে একটি কার্যকর সংস্কার প্রক্রিয়া শুরু করা উচিত ছিল। কিন্তু তা না করে যদি ফ্যাসিবাদী আচরণ করা হয়, তবে তার পরিণতি শুভ হবে না।

গণভোটের প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, গণভোটে জনগণ সংবিধান সংস্কারের পক্ষে স্পষ্ট মত দিয়েছে। গণভোটে ৮৪টি বিষয়ে জনগণ সরাসরি ‘হ্যাঁ’ বলেছেন। সংসদ সদস্যদের ক্ষমতা মূলত জনগণের অর্পিত ক্ষমতা। তাই জনগণের রায়ের বিপরীতে গিয়ে কেবল কিছু সংশোধনী এনে সংবিধানের মৌলিক পরিবর্তন সম্ভব নয়। গঠিত ছয়টি কমিশনের সুপারিশ অনুযায়ী পূর্ণাঙ্গ সংস্কারই এখন সময়ের দাবি।

দেশের বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতির সমালোচনা করে জামায়াতের এই নেতা বলেন, গত পাঁচ মাসেও প্রশাসন ও রাষ্ট্র পরিচালনায় দৃশ্যমান পরিবর্তন আসেনি। জেলা পরিষদ, সিটি করপোরেশন, পৌরসভা, উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ, টিআর, কাবিখা থেকে শুরু করে ইমামদের ভাতার ক্ষেত্রেও দলীয় বিবেচনা অব্যাহত রয়েছে। এভাবে রাষ্ট্র পরিচালিত হলে অতীতের স্বৈরাচারের সঙ্গে বর্তমানের কোনো মৌলিক পার্থক্য থাকে না।

সরকারকে হুঁশিয়ারি দিয়ে গোলাম পরওয়ার বলেন, যদি সংসদে জনগণের রায়কে গুরুত্ব না দেওয়া হয়, তবে গণভোটে সমর্থন দেওয়া জনগণকে সঙ্গে নিয়ে রাজপথে জোরদার আন্দোলন গড়ে তোলা হবে। জনগণের রায় বাস্তবায়ন না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলন চলবে। তিনি দলীয়করণ ও বৈষম্যমুক্ত বাংলাদেশ গড়ে তুলতে ১১ দলীয় ঐক্যের ঘোষিত কর্মসূচি সফল করার আহ্বান জানান।

আলোচনা সভায় অধ্যাপক গোলাম রসুলের সভাপতিত্বে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন মোবারক হোসেন, এ এস এম শাহরিয়ার কবির, মাওলানা আজীজুর রহমান, গাজী এনামুল হক, মুক্তার আলী, আতাউর রহমান বাচ্চু, জেলা এনসিপির প্রধান সমন্বয়কারী নুরুজ্জামান, এলডিপির জেলা সম্পাদক খালেকুজ্জামান রিপন এবং এবি পার্টির জেলা সভাপতি ইয়ামিনুর রহমান।

এ ছাড়া বক্তব্য দেন জেলা জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি গোলাম কুদ্দুস, অধ্যাপক শামসুজ্জামান, মনিরুল ইসলাম, প্রচার সেক্রেটারি শাহাবুদ্দিন বিশ্বাস, শিক্ষা ও সাংস্কৃতিক সম্পাদক আবুল হাশেম রেজা, দপ্তর সম্পাদক নূর-ই-আল মামুন, শহীদ তৌহিদুল ইসলাম ও শহীদ আব্দুল্লাহর পিতা আব্দুল জব্বার এবং জুলাই যোদ্ধা আব্দুল আহাদ। অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন জেলা জামায়াতের সেক্রেটারি আবু জাফর সিদ্দিকী।