logo
Advertisement

বছরের ১২ মাসই পানিবন্দি টাঙ্গাইল পৌরসভার একাংশ

এশিয়া পোস্ট নিউজ
এশিয়া পোস্ট নিউজ
টাঙ্গাইল, ঢাকা
বছরের ১২ মাসই পানিবন্দি টাঙ্গাইল পৌরসভার একাংশ
পানি নিষ্কাশনের ব্যবস্থা না থাকায় বছরের পর বছর ধরে নোংরা পানিতে ডুবে রয়েছে টাঙ্গাইল পৌরসভার একটি সড়ক। ছবি: এশিয়া পোস্ট

প্রায় দেড়শ বছরের পুরোনো টাঙ্গাইল পৌরসভা। সময়ের সঙ্গে শহরের পরিধি ও জনসংখ্যা বাড়লেও অবসান ঘটেনি নাগরিক দুর্ভোগের। পর্যাপ্ত পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থা না থাকায় বছরের প্রায় বারো মাসই পানিবন্দি অবস্থায় দিন কাটাতে হচ্ছে পৌরবাসীকে। সড়ক-অলিগলি পেরিয়ে বাসাবাড়িতেও ঢুকে পড়ছে নোংরা পানি। এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে মশা-মাছি, দুর্গন্ধ এবং সাপ ও পোকামাকড়ের তীব্র আতঙ্ক। তবে বিষয়টি খোঁজ নিয়ে দ্রুত সমাধানের আশ্বাস দিয়েছেন পৌর প্রশাসক।

১৮৮৭ সালে প্রতিষ্ঠিত টাঙ্গাইল পৌরসভার আয়তন প্রায় ২৯.৪৩ বর্গকিলোমিটার। ১৮টি ওয়ার্ড নিয়ে গঠিত প্রথম শ্রেণির এই পৌরসভায় জনসংখ্যা প্রায় আড়াই লাখ, যার মধ্যে পুরুষ ও নারী মিলে ভোটার সংখ্যা ১ লাখ ৯ হাজার ৬৯৯ জন। পৌরসভাটির সুরম্য প্রশাসনিক ভবন থাকলেও বাসিন্দাদের জন্য কাঙ্ক্ষিত নাগরিক সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করা যায়নি।

কেবল বৃষ্টি হলেই যে জলাবদ্ধতা তৈরি হয়, তা নয়। টাঙ্গাইল পৌরসভার ১৫ নম্বর ওয়ার্ডের আশেকপুরসহ বিভিন্ন এলাকায় বছরের প্রায় পুরোটা সময়ই পানি জমে থাকে। ড্রেনেজ ব্যবস্থা অপর্যাপ্ত হওয়ায় রাস্তাঘাট, অলিগলি ও বাসাবাড়ির আঙিনায় দীর্ঘদিন ধরে জমে থাকছে নোংরা পানি। এতে স্বাভাবিক চলাচল মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে। পাশাপাশি পানিবন্দি ঘরবাড়িতে ঢুকে পড়ছে সাপ, বিচ্ছুসহ বিষাক্ত পোকামাকড়। ফলে প্রতিনিয়ত চরম আতঙ্কের মধ্যে দিন কাটাচ্ছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।

স্থানীয়দের মতে, জলাবদ্ধতা এখন আর সাময়িক কোনো সমস্যা নয়; এটি তাদের নিত্যদিনের ভোগান্তিতে পরিণত হয়েছে। রোদ কিংবা বৃষ্টি—সব আবহাওয়াতেই রাস্তার ওপর ময়লা পানি জমে থাকে। বাধ্য হয়ে শিশু, শিক্ষার্থী, নারী ও প্রবীণদের সেই নোংরা পানি মাড়িয়েই যাতায়াত করতে হচ্ছে।

সবচেয়ে বড় উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে বাসাবাড়িতে সাপ ও পোকামাকড়ের উপদ্রব। দীর্ঘদিনের জমে থাকা পানি ও জমে থাকা বর্জ্যের কারণে এলাকায় সাপের আনাগোনা আশঙ্কাজনকভাবে বেড়েছে বলে অভিযোগ বাসিন্দাদের।

স্থানীয় বাসিন্দা জোসনা বেগম বলেন, বৃষ্টি না হলেও আমাদের বাড়ির চারপাশে পানি আটকে থাকে। দুর্গন্ধযুক্ত পানি আর ময়লার কারণে মশা-মাছির পাশাপাশি সাপ ও পোকামাকড়ের ভয় নিত্যদিনের। রাতে আতঙ্ক আরও বাড়ে। ছোট সন্তানদের নিয়ে সবসময় ভয়ে থাকতে হয়।

আরেক বাসিন্দা হাসেম আলী জানান, রাস্তা দিয়ে স্বাভাবিকভাবে হাঁটার সুযোগ নেই। বাড়ি থেকে বের হতেই নোংরা পানি পার হতে হয়। পানির নিচে কী আছে তা বোঝার উপায় থাকে না। সাপ বা বিষাক্ত পোকামাকড়ের ভয়ের পাশাপাশি দৈনন্দিন কাজকর্ম মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে।

শিক্ষার্থীদের ভোগান্তির কথা উল্লেখ করে জোবায়দা উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক শফিকুল ইসলাম বলেন, রাস্তায় পানি জমে থাকায় শিক্ষার্থীদের চলাচলে চরম ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে, যা তাদের স্বাভাবিক লেখাপড়াকেও ব্যাহত করছে।

এদিকে দীর্ঘদিন পানি জমে থাকায় এলাকায় সৃষ্টি হয়েছে তীব্র দুর্গন্ধ। জমে থাকা পানি ও বর্জ্য মিলে পুরো পরিবেশ অস্বাস্থ্যকর হয়ে উঠেছে, যার ফলে মশা-মাছির উপদ্রব বেড়েছে বহুগুণ। সব মিলিয়ে চরম দুর্ভোগে দিন কাটাচ্ছেন এই এলাকার মানুষ।

এই এলাকায় রয়েছে সদর উপজেলা পরিষদ, প্রাথমিক বিদ্যালয়, উচ্চ বিদ্যালয়, মসজিদ, মাদ্রাসাসহ বহু সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠান। ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কে যাতায়াতের বিকল্প সড়ক হিসেবেও এটি ব্যবহৃত হয়। আশপাশের অন্তত ২০টি এলাকার হাজার হাজার মানুষ প্রতিদিন এই সড়ক দিয়েই চলাচল করেন। ফলে গুরুত্বপূর্ণ এই এলাকায় জলাবদ্ধতার কারণে কেবল স্থানীয়রাই নন, পথচারীরাও প্রতিনিয়ত চরম ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন।

এলাকার বাসিন্দা লুৎফর রহমান স্থায়ী সমাধানের দাবি জানিয়ে বলেন, দ্রুত নতুন ড্রেন নির্মাণ, বিদ্যমান ড্রেন সংস্কার ও নিয়মিত পরিষ্কারের ব্যবস্থা করতে হবে। সাময়িক কোনো পদক্ষেপ নয়, স্থায়ী পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থা করেই এই পানিবন্দি মানুষের দুর্ভোগ কাটাতে হবে।

সার্বিক বিষয়ে টাঙ্গাইল পৌরসভার প্রশাসক সুমাইয়া মমিন বলেন, বিষয়টি খোঁজ নিয়ে দ্রুত পানি নিষ্কাশনসহ প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।