টেকনাফে সীমান্তবর্তী এলাকায় ১৪ লাখ ইয়াবাসহ আটক ২

কক্সবাজারের টেকনাফের হ্নীলা সীমান্ত দিয়ে নৌকায় করে ইয়াবার বড় একটি চালান পাচারের সময় দুই ব্যক্তিকে আটক করেছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)। তাদের নৌকার সঙ্গে দড়ি দিয়ে পানিতে ভাসিয়ে রাখা বস্তা থেকে ১৪ লাখ ইয়াবা উদ্ধার করা হয়েছে।
বিজিবির কর্মকর্তাদের দাবি, একক অভিযানে জব্দ করা ইয়াবার পরিমাণের দিক থেকে এটি এযাবৎকালের সবচেয়ে বড় চালান। উদ্ধার করা ইয়াবার আনুমানিক মূল্য ৪২ কোটি টাকা।
বুধবার (৯ সেপ্টেম্বর) দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে টেকনাফের হ্নীলা বিজিবি ফাঁড়ির (বিওপি) সুইচগেট এলাকায় অভিযান চালিয়ে এসব ইয়াবা উদ্ধার করা হয়।
আজ বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে উখিয়া ব্যাটালিয়ন (৬৪ বিজিবি) কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে অভিযানের বিস্তারিত তুলে ধরেন ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মো. জহিরুল ইসলাম।
লেফটেন্যান্ট কর্নেল জহিরুল ইসলাম বলেন, গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে জানা যায়, হ্নীলা এলাকা দিয়ে ইয়াবার একটি বড় চালান বাংলাদেশে প্রবেশের চেষ্টা করা হচ্ছে। এ তথ্যের ভিত্তিতে সীমান্তবর্তী এলাকায় গোয়েন্দা নজরদারি বাড়ানোর পাশাপাশি ড্রোন ও প্রযুক্তিনির্ভর পর্যবেক্ষণ এবং টহল জোরদার করা হয়।
তিনি বলেন, বুধবার দুপুরে দুই চোরাকারবারি জেলের ছদ্মবেশে একটি নৌকায় করে হ্নীলা বিওপির সুইচগেট এলাকা দিয়ে বাংলাদেশে প্রবেশের চেষ্টা করেন। তাদের গতিবিধি সন্দেহজনক মনে হলে আগে থেকেই অবস্থান নেওয়া বিজিবির বিশেষ টহল দল নৌকাটিকে থামার সংকেত দেয়। এ সময় তাঁরা পালানোর চেষ্টা করলে বিজিবি সদস্যরা দুজনকে আটক করেন।
জহিরুল ইসলাম বলেন, নৌকাটিতে তল্লাশি চালিয়ে কোনো মাদকদ্রব্য পাওয়া যায়নি। তবে নৌকার সঙ্গে দড়ি দিয়ে বাঁধা অবস্থায় পানিতে ভাসমান কয়েকটি বস্তা দেখতে পান বিজিবি সদস্যরা। বস্তাগুলো উদ্ধার করে তল্লাশি চালালে খাকি রঙের প্যাকেটে মোড়ানো নীল রঙের ইয়াবা পাওয়া যায়।
লেফটেন্যান্ট কর্নেল জহিরুল ইসলাম বলেন, ওই বস্তাগুলোতে ১৪০টি কার্টনে মোট ১৪ লাখ ইয়াবা ছিল। উদ্ধার করা ইয়াবার আনুমানিক বাজারমূল্য ৪২ কোটি টাকা।
বিজিবির এই কর্মকর্তা জানান, এর আগে গত ৩ ও ৪ সেপ্টেম্বর হ্নীলার সাবরাং এলাকায় ইয়াবার দুটি ছোট চালান পাচারের চেষ্টা করা হয়েছিল। প্রযুক্তির সহায়তায় ওই দুটি ঘটনায় দুজনকে আটক করে তিন লাখ ইয়াবা জব্দ করা হয়। পরপর দুটি চালান আটকের পর চোরাকারবারিরা রাতের বদলে দিনের বেলায় নতুন কৌশলে ইয়াবা পাচারের চেষ্টা করে বলে জানান তিনি।
সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, কক্সবাজার রিজিয়নের তত্ত্বাবধানে রামু সেক্টরের নির্দেশনায় উখিয়া ব্যাটালিয়ন (৬৪ বিজিবি) চলতি বছরের ১ জানুয়ারি থেকে ৯ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত মোট ১ কোটি ৪৩ লাখ ইয়াবা জব্দ করেছে। একই সময়ে মাদক পাচারের সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগে ২৪৩ জনকে আটক করা হয়েছে।
লেফটেন্যান্ট কর্নেল মো. জহিরুল ইসলাম বলেন, সীমান্ত এলাকায় নানা প্রতিকূলতা ও সীমাবদ্ধতা থাকা সত্ত্বেও বিজিবি সদস্যরা সর্বোচ্চ পেশাদারত্বের সঙ্গে দায়িত্ব পালন করছেন। চোরাচালান শূন্যের কোঠায় নামিয়ে আনতে তাঁদের প্রচেষ্টা অব্যাহত রয়েছে। মাদক চোরাচালানের পাশাপাশি জ্বালানি, ভোজ্যতেল ও সার পাচার রোধেও বিজিবির অভিযান অব্যাহত থাকবে।


